Tick Flea নির্মূলে Frontline Spray এর গুরুত্ব এবং এটি ব্যবহারের নিয়ম

Frontline Spray ব্যবহার বিড়াল/কুকুরের Tick & Flea নির্মূলের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। Tick & Flea নির্মূলের জন্য মার্কেটে অনেক ধরনের পাউডার, shampoo, Spot-on flea treatment পাওয়া যায়। কিন্তু কোনটাই ১০০% Tick & Flea নির্মূল করতে পারে না। কিন্তু Frontline Spray  ২৪ ঘণ্টার ভিতরে ১০০% Tick & Flea  নির্মূল করে নিরাপদভাবে।

Continue reading

prevention-of-cat-hair-loss

বিড়ালের লোম পড়ে গেলে যা করণীয়

বিড়ালের লোম পড়ে যাওয়াকে ইংরেজিতে Shedding বলে। Shedding হচ্ছে বিড়ালের লোম পড়ে যাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ঋতু অনুযায়ী Shedding কম বেশি হয়। Outdoor বিড়ালের গরমকালে লোম বেশি পড়ে গিয়ে শরীর ঠাণ্ডা থাকে আর শীতকালে কম লোম পড়ে যা শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু indoor বিড়ালের সারা বছরই Shedding হয়। তবে খুব বেশি লোম পড়ে গেলে তাকে রোগের লক্ষন বলে বুঝতে হবে।

অতিরিক্ত লোম পড়ার কারন –
স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত লোম পড়ে গেলে বিড়ালকে অবশ্যই vet এর কাছে নিয়ে যেতে হবে। অতিরিক্ত লোম পড়ার কিছু কারন হলঃ
১. এলার্জি
২. ব্যকটেরিয়াল ইনফেকশন
৩. রিংওয়ার্ম, Flea অথবা উকুনের ন্যায় পরজীবী
৪. হরমোনের তারতম্য
৫. নিম্নমানের খাদ্য গ্রহন
৬. নিম্নমানের grooming এর পণ্য ব্যাবহার, যেমনঃ শ্যাম্পু, পাউডার ইত্যাদি।
৭. Pregnancy বা lactation
৮. মানসিক stress

prevention-of-cat-hair-loss1Shedding নিয়ে উদ্বিগ্ন কখন হবেন?
যখন Shedding এর সাথে সাথে বিড়াল অতিরিক্ত চুলকাবে, কামড়াবে অথবা চাটাচাটি করবে তখন বুঝতে হবে অন্য কোন কারন রয়েছে। শরীরের কোন কোন স্থানের যদি লোম পড়ে গিয়ে চামড়া দেখা যায় (চিত্রের মত) তবে তাকে medical treatment দিতে হবে।

কিভাবে লোম পড়া (Shedding) কমানো যায় –
যদি বিড়ালের অতিরিক্ত লোম পড়ে এবং vet যদি বলে যে কোন medical issue নেই, তখন আপনি এভাবে Shedding কমানোর চেষ্টা করতে পারেন।
• খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন। বেশি বেশি মাছ এবং মাংস খাওয়ান। Cat food খেয়ে থাকলে brand পরিবর্তন করে ভালো মানের খাবার দিন।
• প্রতিদিন grooming করান। দিনে অন্তত একবার grooming brush দিয়ে পুরো শরীর আঁচড়ে মরা লোমগুলো ফেলে দিন।
• Grooming এর পর পুরো শরীর check করুন , লাল দাগ, কাঁটাছেড়া, fleas, ticks, অন্যান্য পরজীবী ইত্যাদি আছে কিনা ভালভাবে লক্ষ্য করুন। fleas, ticks, অন্যান্য পরজীবী Shedding এর অন্যতম কারন। তাই বিড়ালকে fleas, ticks, অন্যান্য পরজীবী থেকে মুক্ত রাখুন।
• ভালো brand এর বিড়ালের শ্যাম্পু এবং পাউডার ব্যাবহার করুন। নিম্নমানের এবং মানুষের জন্য তৈরি পণ্য বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর।
• নতুন পরিবেশে মানসিক stress হতে পারে। বিড়ালের মন ভালো রাখতে তাকে সময় দিতে হবে, তার সাথে খেলতে হবে এবং খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রাখতে হবে।

groom your cat

আপনার বিড়ালের Grooming করাবেন কিভাবে?

Grooming কে বিড়াল ও আপনার – দুইজন এর জন্য উপভোগ্য করে তুলতে হবে। বিড়ালের grooming এর সবচেয়ে ভালো সময় হতে পারে ওর খাবারের পর, কারন ওইসময় ওদের mood ভালো থাকে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। ওদের grooming সময় নিয়ে এবং ধৈর্য নিয়ে করতে হয়। তাই যেদিন আপনি অনেক বেশি ক্লান্ত থাকেবন, সেদিন grooming না করাই ভালো।

Grooming পদ্ধতি –
১) আঁচড়ানো / Brushing –
আপনার বিড়ালের লোম যদি হয় ছোট ছোট, তাহলে যেভাবে আঁচড়ে দিবেন –
– প্রথমে একটি metal চিরুনি দিয়ে বিড়ালের মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত আঁচড়ে দিতে হবে।
– তারপর rubber চিরুনি দিয়ে আলগা লোমগুলো আঁচড়ে পরিস্কার করতে হবে।
– বিড়ালের বুক এবং পেটের দিকে আঁচড়ানোর সময় একটু সাবধানে আঁচড়ে দিতে হবে।

আপনার বিড়ালের লোম যদি হয় বড় বড়, তাহলে যেভাবে আঁচড়ে দিবেন –
– প্রথমে বিড়ালের পেট এবং পায়ের অংশ আঁচড়ে দিতে হবে। কোন জট থাকলে ধীরে ধীরে সেটা ছাড়িয়ে দিতে হবে।
– তারপর নিচের দিক থেকে উপরের দিকে rubber এর চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে দিতে হবে।
– বিড়ালের লেজ আঁচড়ে দেয়ার সময় লেজের ঠিক মাঝ বরাবর ভাগ করে দুই দিকে আঁচড়ে দিতে হবে।

২) গোসল করানো / Bathing –
গোসল করানোর পদ্ধতি –
– প্রথমে লোমগুলো আঁচড়ে দিতে হবে যেন কোথাও গিঁট বেঁধে না থাকে।
– যেখানে গোসল করাবেন সেখানে নিচে একটি রাবার প্যাড দিয়ে নিতে হবে। রাবার প্যাড এ ওদের পা পিছলে যাবেনা। সেক্ষেত্রে আপনার বিড়াল অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। রাবার প্যাড না থাকলে একটি মোটা চটের টুকরা দিয়ে নিতে পারেন।
– এরপর যে tub বা গামলা তে গোসল করাবেন, সেখানে ৪-৫ ইঞ্চি উঁচু করে কুসুম গরম পানি নিবেন।
– বিড়ালকে পানিতে বসিয়ে ছোট মগ দিয়ে আস্তে আস্তে পানি ঢালবেন শরীরে। সবচেয়ে ভালো হয় হ্যান্ড ওয়াশার দিয়ে পানি দিলে। তাহলে নিয়ন্ত্রন রাখতে সুবিধা হয়। খেয়াল রাখবেন যেন কানে, নাকে বা চোখে পানি না ঢুকে যায়।
– এরপর শ্যাম্পু নিয়ে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত পুরো শরীরে মেসেজ করে লাগিয়ে দিন।
– তারপর ধুয়ে দিন যেন কোন ফেনা না থাকে। ফেনা থাকলে পরবর্তীতে ওদের শরীর চুলকায় এবং অস্বস্তি বোধ করে।
– সবশেষে একটি শুকনো তয়লা দিয়ে মুছে দিন। শীতের দিনে বিড়ালকে গোসল না করানোই ভালো। তারপরও করাতে হলে সাথে সাথে Hair Dryer দিয়ে শুকিয়ে দিতে হবে।

৩) নখ কাটা / Trimming –

নখ কাঁটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিমাসে অন্তত একবার নখ কাটতে হবে কারন বেশি বড় হয়ে নখ বেঁকে যায় এবং বিড়াল হাটার সময় ব্যথা পায়। নখ বড় হলে রোগজীবাণু আঁটকে থাকে। কিন্তু খুব সাবধানে নখ কাটতে হবে কারন বেশি পরিমানে কাটলে রক্তক্ষরণ হয় তাই অভিজ্ঞ মানুষ দিয়ে নখ trimming করতে হবে অথবা nail clipper কিনে তা দিয়ে কাটতে হবে।
বাসায় নখ কাটলে যা যা মনে রাখতে হবে –
– অবশ্যই ধারালো Nail Clipper ব্যাবহার করতে হবে।
– নখ যেখান থেকে বাঁকানো শুরু করে সেখান থেকে কাটতে হবে। নখের ভেতরে গোলাপি রঙের একটি জায়গা দেখা যায়। নখ কাটার সময় অবশ্যই ওই অংশের পর থেকে কাটতে হবে, নতুবা রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।

৪) লোম কাটা / Trimming –
– Trimming & Cutting নির্ভর করে বিড়ালের জাতের উপর। বেশি, কম, লম্বা, খাটো লোমওলা বিভিন্ন জাতের বিড়ালের লোম বিভিন্নভাবে কাঁটা হয়। এটা পোকা মুক্ত রাখে এবং বিড়ালের লোম কমিয়ে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে। কিছু বিড়ালের লোম খুব দ্রুত বড় হয়। এদেরকে অবশ্যই নিয়মিত লোম trimming করে রাখতে হয়, না হলে তাদের চলাচলেও সমস্যা হয়।

cat grooming

Grooming কি ? Grooming এর প্রয়োজনীয়তা কি ?

Grooming বলতে সাধারনত পরিষ্কার পরিছন্ন রাখার জন্য যত্নকে বোঝায়। বিড়ালকে স্বাস্থ্যবান ও রোগ-জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য grooming করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সব বয়সের ও সবজাতের বিড়ালের Grooming করা জরুরী।

Grooming এর প্রয়োজনীয়তা –
১) এটা চর্মরোগ, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ থেকে মুক্ত রাখে।
২) সাধারন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা।
৩) এর ফলে কোনো অসুখ, ক্ষত, ভাঙ্গা সহজে চোখে পরে এবং চিকিৎসা করা সহজ হয়।
৪) বিড়াল এবং মালিকের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়।
৫) বিড়ালের গায়ে উকুন ও পোকা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।

আঁচড়ানো, গোসল করানো, নখ কাটা, লোম কাটা/trimming ইত্যাদি সবই Grooming এর অন্তর্গত।

bathe a cat

বিড়ালকে গোসল করানোর উপায়

বিড়াল স্বভাবতই পরিষ্কার প্রাণী এবং ময়লা থেকে দূরে থাকে। ওরা নিজেরাই নিজেদেরকে চেটে পরিষ্কার রাখতে পছন্দ করে যাকে natural grooming বলে। ঘরে পালা বিড়ালকে মাসে অন্তত ১-২ বার গোসল করালে ভালো হয়। বয়স ২ মাসের নিচে হলে গোসল না করানোই ভাল। বিড়াল গোসল করা পছন্দ করে না এবং পানি গায়ে লাগলে ভয় পায় অনেক সময়। সুতরাং এদেরকে গোসল করানোর কিছু নিয়ম আছে।

গোসলের আগে-
১) গোসলের আগে ভালভাবে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে দিতে হবে যাতে পোকা এবং আলগা লোমগুলো পড়ে যায় কারন ভিজে গেলে এদেরকে আলাদা করা মুশকিল হয়ে পড়ে।

২) শরীরে কোনও ব্যথা, ক্ষত, কাঁটা আছে কিনা পরীক্ষা করে নিতে হবে। কারন ক্ষতস্থানে শ্যাম্পু লাগান ক্ষতিকর।

৩) এসময় বিড়ালের কান পরিষ্কার করে দিতে হবে। তবে বেশি ভেতর দিকে পরিষ্কার করা যাবে না।

৪) এরপর বিড়ালকে শান্ত হওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে।

গোসলের পদ্ধতি-
প্রথমে বিড়ালকে একটি গামলায় নিয়ে গায়ে আস্তে আস্তে হালকা গরমপানি (বিড়ালের চামড়া অনেক নরম তাই বেশি গরম পানি ব্যাবহার ক্ষতিকর) ঢালতে হবে। হটাত করে পানি গায়ে লাগলে ওরা ভয় পেয়ে যায় তাই ধীরে ধীরে ঢালতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে মুখে পানির ঝাপটা না লাগে এবং কানে পানি না ঢুকে। তারপর দুইহাতে শ্যাম্পু নিয়ে সারা শরীরে লাগিয়ে দিতে হবে। এরপর আস্তে আস্তে পানি ঢেলে ফেনা ধুয়ে ফেলতে হবে। ভালভাবে ধুয়ে দিতে হবে যাতে ফেনা না থাকে। ফেনা থাকলে পরবর্তীতে ওদের গায়ে চুলকাতে পারে। একটি শুকনা তোয়ালে দিয়ে সারা শরীর ভালো করে মুছিয়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি শুকানোর জন্য রোদে নিয়ে যেতে হবে। Hair Dryer দিয়েও শুকানো যায় কিন্তু এর শব্দে আপনার বিড়াল ভয় পেয়ে যেতে পারে এবং আপনার হাতে আঁচড়ে দিতে পারে। তাই Hair Dryer সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।

শীতকালে গোসল না করানোই ভালো এতে বিড়ালের ঠাণ্ডা লেগে জ্বর আসতে পারে। অনেক বিড়াল গোসল করানোর সময় শান্ত থাকে, আবার কিছু বিড়াল অনেক অস্থির হয়ে যায়। যদি গোসল করানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে যায় তাহলে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে এবং পোকাদূর করার জন্য স্প্রে ও পাউডার ব্যাবহার করতে হবে।