বিড়ালের সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য

শহরবাসীদের অনেকেই পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়াল পালেন। এটি বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গৃহপালিত প্রাণী। বিড়াল খুবই আরামপ্রিয় একটি প্রাণী। বাংলাদেশে একে ‘বাঘের মাসি বলে ডাকা হয়। অনেকে বিড়াল পোষেন ইঁদুর মারার জন্য। তাছাড়া দুধ, মাছ, মাংস বিড়ালের প্রিয় খাবার। এরা খুবই নিঃশব্দে চলাফেরা করতে পারে। কারণ এদের পায়ের নীচে খুব নরম মাংসপিণ্ড থাকে।

Continue reading

Tick Flea নির্মূলে Frontline Spray এর গুরুত্ব এবং এটি ব্যবহারের নিয়ম

Frontline Spray ব্যবহার বিড়াল/কুকুরের Tick & Flea নির্মূলের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। Tick & Flea নির্মূলের জন্য মার্কেটে অনেক ধরনের পাউডার, shampoo, Spot-on flea treatment পাওয়া যায়। কিন্তু কোনটাই ১০০% Tick & Flea নির্মূল করতে পারে না। কিন্তু Frontline Spray  ২৪ ঘণ্টার ভিতরে ১০০% Tick & Flea  নির্মূল করে নিরাপদভাবে।

Continue reading

বিড়ালকে বিভিন্ন রোগ থেকে নিরাপদে রাখার উপায়

অনেকেই আজকাল পোষাপ্রাণী হিসেবে বিড়ালকে নির্বাচন করছেন। লালন পালনে সুবিধা এবং দেখতে খুব সুন্দর এবং আদুরে এই প্রাণীটি একটু খাবার এবং আশ্রয় পেলেই সহজে পোষ মেনে যায়। আপনার প্রিয় বিড়ালটি অসুস্থ যাতে না হয় সে দিকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখবেন বিড়াল খুব সংবেদনশীল প্রাণী, একটু অসুস্থতায় তাদের মৃত্যু হতে পারে।

Continue reading

বিড়ালের নখ কাটবেন কিভাবে?

বিড়ালের নখ কি কাটা যাবে?
হ্যাঁ, বিড়ালের নখ কাটা যাবে। কিন্তু খুবই সামান্য পরিমানে trim করতে হবে। নখের সামান্য একটু ভিতরের দিকে মাংস থাকে, তাই সতর্কতার সাথে কাটতে হবে যেন কোন ভাবেই ঐ পর্যন্ত না কাটা হয় তাহলে রক্তক্ষরণ শুরু হবে।

Continue reading

একটি মা বিড়াল এবং বাচ্চাদের যত্ন

একটি বিড়াল যখন ছোট ছোট সুন্দর বাচ্চা দেয়, তখন তারা চায় একটু নিরাপদস্থান, নিয়মিত খাবার এবং একটু ভালোবাসা। হোক সে Stray cat অথবা ঘরে পালা বিড়াল, বাচ্চাদের সুস্থভাবে বেড়ে তোলার জন্য তখন তার চাই একটু বাড়তি যত্ন। সৌভাগ্যবশত, মা বিড়ালের খুব একটা মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। তবে আপনার উচিৎ অবশ্যই তার পাশে থেকে তাকে একটু যত্ন করা।

Continue reading

কিভাবে আপনার পোষা বিড়ালের সাথে নতুন বিড়ালের পরিচয় করিয়ে দিবেন

আপনার বাসায় আদরের একটি বিড়াল আছে, কিন্তু আপনি তাকে ঠিকভাবে সময় দিতে পাচ্ছেন না তাই সে মন খারাপ করে থাকে। চিন্তা করলেন ওর খেলার সাথি হিসেবে আরেকটি বিড়াল অ্যাডপট করলে কেমন হয়? কিন্তু নতুন বিড়ালটি আনার পরে দেখলেন দুইজন দুইজন কে মোটেও সহ্য করতে পারছে না, দেখলেই মারার জন্য ঝাপিয়ে পড়ছে, হিস হিস শব্দ করে একজন অন্যজনকে ভয় দেখাচ্ছে। ভয় পাবেন না এটাই স্বাভাবিক।

Continue reading

Pregnant বিড়ালের লক্ষণসমূহ এবং এর যত্ন

বিড়াল কত দিন Pregnant (গর্ভবতী) থাকে?
বিড়ালের Pregnancy এর সময় হচ্ছে ৬৩-৬৫দিন। তবে মাঝে মধ্যে এর তারতম্য হয়ে ৬০-৭০দিন হয়, যেটা স্বাভাবিক। একটি pregnant বিড়ালকে “Queen” বলা হয়।

বিড়ালের Pregnancy এর লক্ষণ কি কি?pregnent-cat-care-1
মানুষের মতো, বিড়াল blood বা urine পরীক্ষার মাধ্যমে Pregnancy নির্ধারণ করা সম্ভব নয়. তবে কিছু লক্ষন আছে, যার মাধ্যমে আপনার বিড়াল Pregnancy নিশ্চিত হওয়া যায়। লক্ষণগুলো হল:
• Pregnancy এর তৃতীয় সপ্তাহের বিড়ালের Breast এর বৃদ্ধি হবে এবং Nipple গোলাপী হয়ে যাবে। এটি ‘Pinking up’ হিসাবে পরিচিত।
• Pregnancy চতুর্থ সপ্তাহে বিড়ালের ওজন বেড়ে যায় এবং শরীরে তা দৃশ্যমান হয়।
• Vet দ্বারা check-up করালে ১৭-২৫ দিনের মধ্যে বিড়ালের পেটের মধ্যে প্রানের স্পন্দন পাবে এবং Pregnancy নিশ্চিত করতে পারবে।(এই পরীক্ষাটি বাসায় করা উচিৎ নয়, এতে বিড়ালের miscarriage অথবা বাচ্চার growth এ সমস্যা হতে পারে। X-ray অথবা Ultrasonography এর মাধ্যমেও Pregnancy নিশ্চিত হওয়া যায়)
• যদিও এটা খুব কম দেখা যায়, অনেক বিড়াল এ সময়ে অসুস্থতা অনুভব করতে পারে Pregnancy এর তৃতীয় সপ্তাহের প্রায় তাদের খাবার গ্রহণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং বমি হতে পারে। দীর্ঘদিন অরুচি থাকলে অবশ্যই Vet এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Pregnant বিড়ালের বিশেষ যত্ন
একটি pregnant বিড়ালের খাবারের দিকে বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এসময় একটি Pregnant বিড়ালের খাবারের চাহিদা ৫০গুন বেশি বেড়ে যায়। এসময় সঠিক পরিমানে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে এবং আলাদা ভাবে যত্ন নিতে হবে। Vet পরামর্শ দেয় Kitten Food খাওয়ানোর জন্য কারন এতে অধিক পরিমানে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন থাকে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাছ, মুরগির মাংস, গরুর মাংস, ডিম, Cat wet food, Cat dry food ইত্যাদি দিতে হবে। সাথে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি খেতে দিতে হবে। যেহেতু বিড়াল মাংসাশী প্রাণী তাই ভাত দিলেও অল্প ভাতের সাথে বেশি মাংস মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। তবে খাবারটি অবশ্যই তেল , মশলা , লবন , চিনি, পেঁয়াজ , রসুন ছাড়া শুধু পানিতে সেদ্ধ করে দিতে হবে। কাঁচা মাছ মাংস না খাওয়ানো ভালো কারন এতে ব্যাকটেরিয়া থাকে ফলে বিড়াল রোগে আক্রান্ত হয়।

লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

• পরিমানে অনেক বেশি খাবার এবং অতিরিক্ত স্বাস্থ্য pregnant বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর।
• মরা প্রাণী এবং আজেবাজে কিছু যা খেলে পেট খারাপ হয়, এমন কিছু যাতে না খায় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
• Pregnancy এর শেষের দুই সপ্তাহ তাকে ঘরের ভেতরে রাখা উচিৎ।
• সাবধানে রাখতে হবে যাতে পেটে আঘাত না পায় অথবা অন্য বিড়ালের সাথে মারামারি না করে।
• Pregnancy এর প্রথম দিকে এবং শেষের দিকে vet দ্বারা Check-up করানো উচিৎ।

একটি মা বিড়াল এবং বাচ্চাদের যত্ন

একটি বিড়াল যখন ছোট ছোট সুন্দর বাচ্চা দেয়, তখন তারা চায় একটু নিরাপদস্থান, নিয়মিত খাবার এবং একটু ভালোবাসা। হোক সে Stray cat অথবা ঘরে পালা বিড়াল, বাচ্চাদের সুস্থভাবে বেড়ে তোলার জন্য তখন তার চাই একটু বাড়তি যত্ন। সৌভাগ্যবশত, মা বিড়ালের খুব একটা মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। তবে আপনার উচিৎ অবশ্যই তার পাশে থেকে তাকে একটু যত্ন করা।

মানুষের কোলাহল থেকে দূরে, ঘরের একপাশে একটি নিরাপদ জায়গায় মা ও বাচ্চাদের জন্য বিছানা করে দিতে হবে। একটি বাক্সে, ঝুড়িতে অথবা বড় আকারের খাঁচার ভিতর কিছু নরম কাপড় বিছিয়ে দিতে হবে। এসময় তারা মানুষের উপস্থিতি পছন্দ করে না এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।স্থান পছন্দ না হলে মা বিড়াল বাচ্চাদের মুখে করে নিয়ে অন্য স্থানে চলে যায়। শীতকাল হলে ঘরের ভিতরে উষ্ণ কোনস্থানে রাখতে হবে।এ সময় বাড়িতে অন্য বিড়াল থাকলে তাদেরকে আলাদা রুমে রাখা উচিৎ।

care-of-mom-cat-2এ সময় মা বিড়ালটি খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারে এবং তার কাছাকাছি এমন কোন স্থানে খাবার, পানি ও লিটারবক্স দিতে হবে। ২-৩ দিনের মধ্যে তার খাবারের পরিমান ৪গুন বেড়ে যায়। এসময় তাকে পর্যাপ্ত পরিমানে Cat Wet Food, Cat Dry Food, মাছ, মাংস এবং পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খাওয়াতে হবে। পুষ্টিকর এবং পরিমানে বেশি খাবার খাওয়ালে বাচ্চারা স্বাস্থ্যবান এবং সুস্থ হয়। তাই মা বিড়াল অনেক ব্যস্ত থাকে তাই তার খুব কাছাকাছি খাবার দিতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে-
বাচ্চারা প্রথম ৩-৪ সপ্তাহ শুধু মায়ের দুধ এ খাবে এবং প্রচুর ঘুমায়। এ সময় মা বিড়াল প্রতি ১-৩ ঘণ্টা পর পর বাচ্চাদের পরিচর্যা করে । বাচ্চারা তখন pee ও poop খুব কম করে। তবুও ১-২দিন পর পর তাদের বিছানা পরিষ্কার করে দিতে হবে। ৪সপ্তাহ বয়সে তারা নিজে নিজে শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করে, তখন তারা নিজেরাই লিটার বক্স এ গিয়ে লিটার ব্যবহার করতে পারে।
• বাচ্চা হওয়ার পরে ১-২সপ্তাহের মধ্যে বিড়াল mating করলে আবার pregnant হতে পারে। তাই ছেলে বিড়ালের কাছ থেকে তাকে দূরে রাখতে হবে।
• বাচ্চা বিড়ালের গায়ে Tick & Flea থাকলে খুব দ্রুত রক্তশূন্য হয়ে পড়ে, তাই মা বিড়ালকে এবং বাচ্চাদের Tick & Flea মুক্ত রাখতে হবে।
• সব বাচ্চারা একরকমভাবে বড় হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। অনেক বিড়াল অপুষ্টিতে ভোগে ফলে সমানভাবে বড় হয় না, তাদেরকে অবশ্যই Vet এর কাছে যেতে নিয়ে হবে।

শীতে বিড়ালের যত্ন

বেশিরভাগ বিড়ালই মানুষের কোলে অথবা মানুষের গা ঘেঁষে ঘুমাতে পছন্দ করে। এর প্রধান কারন হচ্ছে বিড়াল উষ্ণস্থান পছন্দ করে। শীতকালে অনেক সময় অনেক বিড়ালকে উষ্ণতার খোঁজে রৌদ্রস্নান করতে দেখা যায়। বয়স্ক এবং মা বিড়ালকে বাচ্চা নিয়ে ঘরের উষ্ণস্থানটি খুঁজতে থাকে। বিড়ালের শরীরে লোম বেশি থাকলেও তারা শীত বেশি লাগে। এসময় বিড়ালকে বেশি অসুস্থ হতে দেখা যায়। তাই শীতকালে আপনার পোষা বিড়ালটি প্রয়োজন কিছু বাড়তি যত্নের।

১। নরম এবং উষ্ণ বিছানা:
স্বভাবতই বিড়াল ঘুমাতে অনেক পছন্দ করে। 猫のベッドআর শীতকালে তাদের ঘুমানোর জন্য চাই একটি নরম ও উষ্ণ বিছানা। আজকাল বিড়ালের জন্য আলাদাভাবে Cat Bed or Cat house কিনতে পাওয়া যায়। ঘরের কোনায় তার জন্য পছন্দের একটি বিছানা তৈরি করে দিন অথবা আপনার সাথে কম্বলের উপর ঘুমাতে দিন। এতে করে সে ঘুমিয়ে আরাম পাবে এবং ঠাণ্ডায় কষ্ট হবে না।

২। রৌদ্রস্নান (Sunbath):
বিড়ালকে রৌদ্রস্নান করতে দিন। ঘরের যে পাশে দিনের বেলা রোদ আসে, সেদিকের পর্দা সরিয়ে উন্মুক্ত করে দিন যাতে করে ঘরের ভেতর রোদ আসতে পারে। বিড়াল রোদের আলোর উষ্ণতা খুব পছন্দ করে।

৩। বিড়ালের খাওয়া:
খেয়াল রাখতে হবে বিড়াল ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করছে কিনা। বিড়ালকে তার বয়স অনুযায়ী খাওয়া অত্থবা Cat Food খাওয়াতে হবে যাতে সে সঠিক ক্যালোরি পায়। প্রয়োজনে খাবার বাড়াতে অথবা কমাতে হবে। রেফ্রিজারেটর এর ঠাণ্ডা খাবার গরম করে দিতে হবে, সরাসরি ঠাণ্ডা খাবার দিলে বিড়ালের ঠাণ্ডা লেগে জ্বর হতে পারে।

৪। গোসল অথবা Grooming:
বিড়াল স্বভাবতই পরিষ্কার প্রাণী এবং তারা পানি পছন্দ করে না। শীতকালে বিড়ালকে গোসল না করানই ভালো, এতে জ্বর এসে নিউমনিয়া হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। খুব যদি প্রয়োজন মনে হয় তাহলে হালকা গরম পানিতে গোসল করিয়ে, ভালো ভাবে তোয়ালে দিয়ে মুছিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে Hair Dryer দিয়ে শুকিয়ে উষ্ণস্থানে রেখে দিতে হবে।

৫। Activity ও খেলেধুলা:
শীতকালে সব প্রাণীর মধ্যেই একটু অলসতা দেখা দেয়। বিড়াল এ সময় তুলনামুলকভাবে বেশি ঘুমায়। তাই তার সাথে প্রতিদিন একটু সময় খেলাধুলা করতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে তার Activity ঠিক আছে কিনা।

৬। গ্যারেজ অথবা Basement নিরাপদ নয়:
আপনার বিড়াল যদি নিয়মিত বাইরে যায় তাহলে এখনি নেট লাগিয়ে দিন যাতে বাইরে যেতে না পারে। শীতকালে বিড়াল উষ্ণ জায়গা খুঁজে আর গ্যারেজ এ গাড়ির ইঞ্জিনের উষ্ণতা পাওয়ার জন্য গাড়ির নিচে অথবা চাকার উপরে ঘুমিয়ে থাকে। এতে করে অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে অথবা বেশি তাপে শরীরের যে কোন অংশ পুড়ে যেতে পারে।

৭। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকা দিতে হবে:
শীতকাল আসার আগেই বিড়ালকে রোগ প্রতিরোধ করার জন্য টিকা দিতে হবে। এছাড়া জ্বর, কাশি হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটস্থ vet এর কাছে নিয়ে যেতে হবে।

food-routine-according-to-age

বয়স অনুযায়ী বিড়ালের খাদ্য তালিকা

০সপ্তাহ – ৪ সপ্তাহ :  মায়ের দুধ এসময় বিড়ালের জন্য আদর্শ খাদ্য। এসময় বিড়াল শুধুমাত্র লিকুইড/তরল খাবার খেতে পারে। কোন শক্ত খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাচ্চাটি যদি orphan হয় সেক্ষেত্রে baby feeder/dropper/syringe এ করে গরুর তরল দুধ অথবা পাউডার দুধ খাওয়াতে হবে। দুধ ঘন হলে বাচ্চার ডায়রিয়া হয়ে যেতে পারে। তাই সমান পরিমান পানির সাথে (১কাপ তরল দুধ=১কাপ পানি এই অনুপাতে) মিশিয়ে, পাউডার হলে খুব পাতলা করে গুলিয়ে তারপর বাচ্চাটিকে খাওয়াতে হবে। গরুর দুধে lactose বেশি থাকার কারনে এই বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর।  এছাড়া বিভিন্ন pet shop এ orphan বিড়ালের বাচ্চাদের জন্য kitten formula কিনতে পাওয়া যায় যা মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে ব্যাবহার করা যায়। চার সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পরপর এভাবে খাওয়াতে হয়।

৪সপ্তাহ – ১২ সপ্তাহ : এসময় বিড়ালের বাচ্চা দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার খেতে পারে। বিভিন্ন খাবার যেমন- কাঁটা ছাড়া মাছ, থেঁতলানো সেদ্ধ মাংস (মশলা ছাড়া) ইত্যাদি খেতে দিতে হবে। ভাত দিতে চাইলে অল্প পরিমানে ভাত মিশাতে হবে। খাবারটি ভালভাবে থেঁতলিয়ে একটু পানি মিশিয়ে নরম করে দিতে হবে। Kitten Food খাওয়ানো যায় এবং প্রয়োজনে পানি মিশিয়ে নরম করে দিতে হবে। প্যকেট এর গায়ে ওজন অনুযায়ী খাওয়ানোর নির্দেশনা দেওয়া থাকে। এসময় বাচ্চাদের অধিক পুষ্টি প্রয়োজন হয় যা Kitten Food এ পাওয়া যায়। দিনে ৩-৫ বার বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে এবং ধীরে ধীরে দুধ খাওয়ানো কমিয়ে আনতে হবে। তবে ৮-১০ সপ্তাহ বয়সের পরে আর দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই।

১২সপ্তাহ/৩মাসের পর থেকে : এসময় বিড়াল সব ধরনের খাবার যেমন- বিভিন্ন ধরনের মাছ, মুরগির মাংস, গরুর মাংস,  ডিম, Cat wet food, Cat dry food ইত্যাদি খায়। সাথে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি খেতে দিতে হবে। যেহেতু বিড়াল মাংসাশী প্রাণী তাই ভাত দিলেও অল্প ভাতের সাথে বেশি মাংস মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। তবে খাবারটি অবশ্যই তেল , মশলা , লবন , চিনি, পেঁয়াজ , রসুন ছাড়া শুধু পানিতে সেদ্ধ করে দিতে হবে। কাঁচা মাছ মাংস না খাওয়ানো ভালো কারন এতে ব্যাকটেরিয়া থাকে ফলে বিড়াল রোগে আক্রান্ত হয়। এসময় তাকে দিনে ২-৩বার খাওয়াতে হবে।

Pregnant এবং মা বিড়ালের খাবার : বিড়ালের গর্ভাকাল(Gestation) এর সময় আনুমানিক ৯সপ্তাহ।food-routine-according-to-age2 এসময় একটি Pregnant বিড়ালের খাবারের চাহিদা ৫০গুন বেশি বেড়ে যায়। এসময় বেশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে এবং আলাদা ভাবে যত্ন নিতে হবে। অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি kitten food খেতে দেওয়া যায় কারন এতে আলাদা পুষ্টি থাকে। বাচ্চা হওয়ার পর বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সময়ও মা বিড়ালের আলাদা পুষ্টির প্রয়োজন হয়। বাচ্চা হওয়ার ৮-৯ সপ্তাহ পর মা বিড়ালের দুধ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন সে আস্তে আস্তে আগের খাবারের পরিমানে ফিরে আসে। এসময় বিড়ালের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যেতে পারে তাই অতিরিক্ত ওজন কমে গেলে vet এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

why cat stop using litter box

বিড়ালের Litter Box ব্যাবহার বন্ধ করে দেওয়ার কয়েকটি কারন এবং এর সমাধান

প্রত্যেকটি বিড়াল একটি নির্দিষ্ট স্থানে টয়লেট করতে চায় বিধায় বিড়ালকে potty train করা সহজ বিষয়। কিন্তু যখন একটি বিড়াল litter box ব্যাবহার করা ছেড়ে দেয় তখন এটি সমস্যা এবং চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিড়ালের এই litter box ব্যাবহার বন্ধের কিছু কারন থাকে। সঠিক কারণটি নির্ণয় করা গেলে এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১। অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত litter box : বিড়াল অনেক পরিষ্কার স্বভাবের প্রাণী হওয়াতে অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত litter box বিড়াল ব্যাবহার করতে চায় না। আর তাই দিনে অন্তত দুইবার litter box পরিষ্কার করা উচিৎ। litter ব্যাবহার করলে scoop দিয়ে শক্ত litter তুলে ফেলতে হবে, বালি/কাগজ ব্যাবহার করলে দিনে একবার নোংরা বালি ফেলে নতুন বালি দিতে হবে কারন ভেজা স্থান বিড়ালের খুবই অপছন্দনীয়। litter boxটি সপ্তাহে একদিন ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে। সাবান অথবা ডিটারজেনট দিয়ে পরিষ্কার করলে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে সেটা সাবানের গন্ধ মুক্ত হয়েছে।

২। ঢাকনাযুক্ত litter box : বিড়ালের privacy এর জন্য এটি ভাল litter box। কিন্তু আবদ্ধ থাকায় এই box থেকে গন্ধ বের হতে পারে না আর তাই বিড়াল এটা ব্যাবহার ও করতে চায় না।

৩। ভুল সাইজের litter box:  বিড়াল যদি ঠিকমতো না বসতে পারে অর্থাৎ বিড়ালের সাইজ অনুযায়ী litter box ছোট হয়, তাহলে বিড়াল সেই litter box ব্যাবহার করতে চাইবে না।

৪। ভুল litter ব্যাবহার :  ভুল litter ব্যাবহার এর ফলে বিড়াল litter box ব্যাবহার ছেড়ে দেয়। বিড়ালের paws পায়ের তলা খুব নরম হয়। শক্ত বা ব্যাথা পাওয়া যায় এমন স্থানে বিড়াল যেতে চায় না। সহজে খোঁড়া যায় এবং ঢেকে রাখা, বালুর মত হালকা রঙের litter বিড়াল পছন্দ করে। ফুলের গন্ধ অথবা গন্ধ যুক্ত litter বিড়াল পছন্দ করে না। বালি অথবা litter পর্যাপ্ত পরিমানে দিতে হবে।

৫। পর্যাপ্ত litter box না থাকলে : বিড়াল যদি দুইটির বেশি থাকে তাহলে একটি litter box তারা সবাই ব্যাবহার করবে না। এছাড়া অধিক ব্যাবহারে সেটি বেশি নোংরা হয়ে যাবে। তাই বেশি বিড়ালের জন্য ২-৩টি litter box এর ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

৬। ভুলস্থানে litter box রাখা :  আবদ্ধ ঘরে litter box রাখলে ঘরে গন্ধ ছড়ায়, সুতরাং খোলামেলা স্থানে litter box রাখতে হবে এবং যেখানে বিড়াল সহজে যাতায়াত করতে পারে। অবশ্যই খাবারের স্থান এবং litter box এর স্থান ভিন্ন ভিন্ন হতে হবে। কোলাহল যুক্ত অর্থাৎ মানুষ চলাচল করে এমন স্থানে litter box দেওয়া উচিৎ নয়।

৭। Heat এ থাকা অবস্থায় : বিড়াল heat এ থাকা অবস্থায় অন্য বিড়ালকে আকর্ষণ করার বিভিন্ন জায়গায় pee করতে পারে। তখন সে litter box ব্যাবহার করতে চায় না। আর তাই ৫মাস বয়সের পর spay/neuter করালে বিড়াল heat এ আসবে না।

৮। শারীরিক অসুস্থতা : অনেকসময় শারীরিক অসুস্থতার কারনে বিড়াল litter box ব্যাবহার করে না। সে টয়লেট করার সময় যদি ব্যথা অনুভব করে অথবা কষ্ট পায় তখন সে litter box ব্যবহার করতে চাইবে না। সমস্যাটি বুঝতে পারলে vet এর সাথে যোগাযোগ করুন।

Litter/Litter box কিনতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

importance and method of cleaning cat teeth

বিড়ালের দাঁত পরিষ্কার রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং পরিষ্কার করার নিয়ম

দাঁত পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা

বিড়ালের নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরী। ১ বছর বয়স থেকে বিড়ালের দাঁতের পরিচর্যা শুরু করা উচিৎ কারন প্রায় ৭০% বিড়ালের ১ বছর বয়সের পর থেকেই দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। দাঁত পরিষ্কার না করলে যে সমস্যা গুলো দেখা দেয়-importance and method of cleaning cat teeth 2

১. দাঁত হলদেটে হয়ে যায়।

২. মাড়ি ও দাঁতের বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়।

৩. দাঁতের মাড়ি লাল অথবা ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

৪. দাঁতের গোঁড়ায় পাথর অথবা প্লাক জমে।

৫. দাঁতে ব্যথা হয় এবং দাঁত পড়ে যায়।

৬. নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়।

এসব রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে দাঁত নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কিন্তু বিড়াল সহজে তার মুখের ভেতর আঙুল অথবা ব্রাশ ঢোকাতে দিতে চায় না। তাই কিছু কৌশল অনুসরন করুন পোষা বিড়ালটির দাঁত পরিষ্কার করার জন্য।

বিড়ালের দাঁত পরিষ্কার করবেন যেভাবে

১. প্রথমে বিড়াল যাতে মুখে আঙুল অথবা ব্রাশ ঢুকাতে দেয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। আঙুলে টুনা/মুরগির স্বাদ ও গন্ধযুক্ত লিকুইড অথবা জেল মাখিয়ে নিন যাতে বিড়াল treat মনে করে। এরপর আস্তে আস্তে তার মাড়িতে আঙুল ঘষুন। কয়েকবার এভাবে করার পর বিড়াল সহজে মুখে হাত দিতে দিবে।

২. এরপর আঙুলে গজ পেঁচিয়ে লিকুইড অথবা জেল মাখিয়ে নিন। এখন আস্তে আস্তে আঙুল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দাঁতের ওপর ঘষুন। একটু সাবধানে করবেন যাতে না কামড়ায়।

৩. এরপর টুথব্রাশ ব্যাবহার করতে পারবেন। বাজারে বিভিন্ন ফ্লেভারের বিড়ালের টুথপেস্ট কিনতে পাওয়া যায়। এইসব ফ্লেভার বিড়াল খুব পছন্দ করে এবং সহজেই ব্রাশ করতে দিবে।

৪. প্রথমে শুধু সামনের বড় দাঁত দুইটি ব্রাশ করুন, আস্তে আস্তে মাড়ির দাঁতগুলো সহ ব্রাশ করুন।

৫. ব্রাশ করার সময় নিচুস্বরে খুশি হয়ে বিড়ালের সাথে কথা বলুন। এমন কিছু করবেন না যাতে বিড়াল ভয় পায়। তাকে বিভিন্নভাবে উৎসাহী করুন যাতে পরবর্তীতে সে ব্রাশ করার সময় আপনাকে সহয়তা করে।