কুকুরের Vaccine কেন এবং কখন দিবেন?

Vaccine(টিকা) কি?

কুকুরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের vaccine রয়েছে। vaccine মানে হচ্ছে প্রতিষেধক যা কুকুরের শরীরে antibodies তৈরি করে এবং রোগ-জীবাণু, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

Continue reading

শীতে কুকুরের যত্ন

বেশিরভাগ মানুষই পোষা কুকুরকে বাইরের বাগানে অথবা ছাদে খোলা স্থানে পালন করে থাকেন। আমাদের দেশি কুকুরের লোম কম থাকায় শীতকালে এদের উষ্ণতার বিশেষ প্রয়োজন হয়। এসব ঠাণ্ডা স্থানে যাতে আপনার প্রিয় প্রাণীটি কষ্ট না পায় সে দিকে বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে। আর তাই শীতকালে তাদের কিছু বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়।

১। শীত সহ্য করার ক্ষমতাঃ
আপনাকে প্রথমেই বুঝতে হবে আপনার কুকুরটি কোন জাতের(Breed)। কিছু কুকুর আছে যাদের শরীরে লোম থাকে যা ঠাণ্ডা আবহাওয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য উপযোগী। কিছু জাতের কুকুরের একেবারেই লোম কম থাকে, তাদের ঠাণ্ডা পরিবেশে বেঁচে থাকতে কষ্ট হয়। সুতরাং তাদের জন্য আলাদা যত্নের দরকার হয়।

২। আরামদায়ক বিছানা ও গরম জামার ব্যবস্থা করতে হবেঃ

Winter-care-for-dog2উষ্ণ, ঠাণ্ডা কম লাগে এমন একটি জায়গায় কুকুরের জন্য বিছানা পেতে দিতে হবে। মেঝেতে খালি জায়গায় অথবা Tiles এ বসতে দেওয়া যাবে না। মাঝে মাঝে বেশি ঠাণ্ডায় কুকুরকে জামা অথবা সোয়েটার পড়িয়ে দিতে হবে। কুকুরটি বাইরে থাকলে তার জন্য আলাদাভাবে থাকার জন্য ছোট ঘর বানিয়ে দিতে হবে যাতে ঠাণ্ডায় তার কষ্ট না হয়।

৩। কুকুরকে বেশি খাওয়ানো যাবে নাঃ
শীতকালে কুকুরের উষ্ণতা প্রয়োজন কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে তা যেন কুকুরের লোম থেকে আসে, তার শরীরের চর্বি (Fat) থেকে নয়। শীতকাল এমনিতেই কুকুরের মধ্যে অলসতা দেখা দেয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় ফলে তারা শরীরে কম ক্যালরির প্রয়োজন হয়। তাই এমন খাবার অথবা dog food খাওয়াতে হবে যাতে তার শরীরে চর্বি কম জমে ,তার শরীরে পরিমিত লোম গজায় এবং ভালো Energy পায়।

৪। পরিমিত পানি পান করাতে হবেঃ
গরমকালের মত শীতকালেও কুকুরের দেহ খুব দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায়। তাই তাকে সব সময় পরিমিত পানি সরবরাহ করতে হবে।

৫। পোড়া থেকে রক্ষা করতে হবেঃ
অনেক সময় উষ্ণস্থান খোঁজার জন্য কুকুর আগুনের আসেপাশে, গরম ইঞ্জিন এর উপর ঘুমাতে চায়, এতে দুর্ঘটনাবশত বেশি তাপ লেগে কুকুরের শরীর পুরে যেতে পারে। তাই তাকে সাবধানে আগুন থেকে দূরে রাখতে হবে।

৬। কুকুরের যত্ন নিতে হবেঃ
শীতকালে কুকুরকে মাঝে মাঝে হালকা গরম পানিতে গোসল করিয়ে ভালভাবে গা মুছে শুকিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া পায়ের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। মাঝে মাঝে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে , কুকুরের জন্য বিশেষভাবে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ointment পাওয়া যায়, তা লাগিয়ে দিতে হবে, এতে করে পা ফাটার সম্ভাবনা কমে যাবে।

৭। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকা দিতে হবেঃ
শীতকাল আসার আগেই কুকুরকে রোগ প্রতিরোধ করার জন্য টিকা দিতে হবে। এছাড়া জ্বর, কাশি হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটস্থ vet এর কাছে নিয়ে যেতে হবে।

বাচ্চা কুকুরের দাঁত ওঠার সময় যা করণীয়

একটি বাচ্চা কুকুরের ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে দাঁত ওঠা শুরু হয়। ৮ সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা কুকুরের দুধ দাঁত পরে স্থায়ী দাঁত উঠতে শুরু করে। এটি তার একটি খারাপ সময় কারন এই সময় সে মাড়িতে irritation অনুভব করে এবং সেই সময়ে সে সব কিছু চাবাতে এবং কামড়াতে চায়। তখন বিভিন্ন সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়।

Chew toy দিতে হবে:
কুকুরের দাঁত উঠার সময় তার কামড় ও চাবানতে আপনার বাসার কাগজ, কুশন, সোফা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র নষ্ট হতে পারে। আর তাই এসব জিনিসের সুরক্ষার জন্য বাচ্চা কুকুরের উপযোগী কোন নরম চর্বণযোগ্য খেলনা তাকে দিতে হবে। আজকাল বিভিন্ন online shop এ এই ধরনের খেলনা কিনতে পাওয়া যায়। এসব খেলনা তাদের মাড়ির ওপর বল প্রয়োগ করে এবং তারা আরাম পেয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে খেলনাটি খুব শক্ত ও খুব নরম যাতে না হয় কারন এতে করে দাঁত ওঠার দিক বদলে যায়। ঘরে তৈরি দড়ি দিয়ে বানানো খেলনাও ওদের জন্য ভালো।

Chew toy টি ঠাণ্ডা করে দিন:
কুকুরের chew toy টি যদি ঠাণ্ডা বা হিম করে দেওয়া হয় তবে সে আরও পছন্দ করবে। বাচ্চা কুকুরটিকে খেলনা দেওয়ার আগে রেফ্রিজারেটরে রেখে খেলনাটি ঠাণ্ডা করে দেওয়া ভালো। এই ঠাণ্ডা খেলনাটি মাড়িকে শীতল করে এবং তার খেলনাটির প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এটা অবশ্যই তার দাঁত ওঠার ব্যথা অনেকাংশে কমাবে।

ঠাণ্ডা খাবার যেমন বিভিন্ন ফল খেতে দিতে হবে:
আমরা জানি যে ঠাণ্ডা খাবার শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তাই ঠাণ্ডা খাবার যেমন ঠাণ্ডা ফল এসময় অনেক সহায়ক খাবার। এটি মাড়ির ব্যথা কমানোর সাথে সাথে ভিটামিন ও সরবরাহ করবে। মাঝে মাঝে বরফ দেওয়া যেতে পারে তবে বরফের টুকরা মাড়ির জন্য ক্ষতিকারক এবং গলায় আটকে যাওয়ারও সম্ভবনা থাকে। তাই মাঝে মাঝে বরফের ছোট টুকরা দেওয়া যেতে পারে।

কুকুরের মনোযোগ অন্যদিকে ফিরিয়ে নেওয়া:
কুকুরের মনোযোগ অন্যদিকে ফিরিয়ে নেওয়া এ সময় তার জন্য সহায়ক। এসময় যদি মন খারাপ করে থাকে অথবা ওর দিকে মনোযোগ না দেওয়া হয় তবে সে আরও বেশি ব্যথায় আক্রান্ত হবে। তার সাথে বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলতে হবে এবং তাকে একটু বেশি সময় দিতে হবে যাতে সে ব্যথার কথা ভুলে থাকতে পারে।

সামাজিক হওয়ার Training দিতে হবে:
এসময় কুকুরকে সামাজিক হওয়ার Training দিতে হবে। তার এই সময়ে তার পাশে থেকে তাকে ভালবেসে আদর করে সামাজিক হওয়ার Training দিতে হবে। এ সময়টাই Training দেওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

মেডিসিন এর মাধ্যমে
এসময় মাড়িতে ব্যথা অনুভব করায় কুকুর অনেক সময় অস্থিরতা প্রকাশ করে। তখন একজন vet এর পরামর্শে ব্যথামুক্ত করার ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।

অনেক কুকুরের এসময়ে মন খারাপ থাকে, অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ করে। মাঝে মাঝে ব্যথায় কিছুই করতে চায় না। সুতরাং এ সময়ে ধৈর্য না হারিয়ে তাকে প্রচুর সময় দিতে হবে এবং বন্ধুর মত তার সাথে থেকে তাকে ভালবাসতে হবে।

কুকুরকে মাংস কিভাবে খাওয়াবেন?

কুকুরকে কিভাবে ধরনের মাংস খাওয়ানো ভালো তা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। কাঁচা মাংস নাকি সেদ্ধ করা মাংস? যে কোন মাংসই প্রোটিনের চমৎকার উৎস। আর তাই সেদ্ধ এবং কাঁচা দুই ধরনের মাংসের সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। সুতরাং কুকুরকে কিভাবে মাংস খেতে দিবেন তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনার উপর নির্ভর করবে।

কাঁচা মাংস খাওয়ানোর নিয়ম:
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কুকুরকে কাঁচা মাংস দিতে নিষেধ করা হয় কারন এতে ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবী থাকে যা বমি, জ্বর, ডাইরিয়া ইত্যাদির অসুস্থতার কারন হয়ে থাকে। তবে কাঁচা মাংস হজমকে দ্রুত করে, প্রচুর শক্তি উৎপন্ন করে এবং এর কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতাও আছে। এটি প্রোটিনের চমৎকার উৎস। তবে কাঁচা মাংস শুধুমাত্র সুস্থ কুকুরকে দিতে হবে যার হজম শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো। অসুস্থ ও দুর্বল কুকুরকে অবশ্যই কাঁচা মাংস খেতে দেওয়া যাবে না কারন অসুস্থ কুকুরের শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে না। আর তাই জীবাণুর আক্রমণে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে।
কাঁচা মাংসকে কমপক্ষে ২ দিন পর্যন্ত রেফ্রিজারেটরে রেখে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে ২০ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে ব্যাকটেরিয়া এবং ক্ষতিকারক জীবাণু মারা যায়। কিন্তু বাসার রেফ্রিজারেটর এই তাপমাত্রা পর্যন্ত পৌছাতে পারে না। তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য থার্মোমিটার কিনে নিতে হবে।

সেদ্ধ রান্না করা মাংস খাওয়ানোর নিয়ম:

মাংস নির্বাচনের সময় হাড়বিহীন মাংস নির্বাচন করতে হবে। এরপর মাঝারি থেকে উচ্চমাঝারি তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে। এরপর আপনি চাইলে একটি পাত্রে একটু তেল দিয়ে টুকরোটির দুইপাশ হালকা ভেজে নিতে পারেন। এতে সুন্দর ঘ্রান এবং মজাদার হবে। তবে পেঁয়াজ রসুন একেবারেই ব্যাবহার করা যাবে না। সব মশলা কুকুরের অ্যানিমিয়া, বমি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সৃষ্টি করে। লবন খুব সামান্য ব্যাবহার করা যেতে পারে, তবে না দিলেও কোন সমস্যা নেই। বরং অতিরিক্ত লবন সোডিয়াম বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
মাংস সেদ্ধ হয়ে গেলে ঠাণ্ডা করে নিন। এর পর ছোট ছোট টুকরো করুন। এটা খুব জরুরী কারন কুকুর খুব তাড়াহুড়ো করে খায়। ছোট টুকরো তার হজমে সহায়ক হবে এবং এটি খাবারের গতি নিয়ন্ত্রণ করবে।

কিছু জিনিস সবসময় মনে রাখতে হবে-
• হটাৎ করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন করবেন না।
• এক ধরনের খাবার সবসময় না দিয়ে মাঝে মাঝে পরিবর্তন করতে হবে। ফল, সবজি (যেসব কুকুর খেতে পারে) ইত্যাদি খাওয়াতে হবে মাঝে মাঝে।
• খাওয়ার পরে এবং আগে অবশ্যই খাওয়ার পাত্র পরিষ্কার করে নিতে হবে। কারন অবশিষ্ট খাবার পচে গিয়ে ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়।
• সব সময় বিশুদ্ধ পানি দিয়ে রাখতে হবে।

কুকুরের সুস্বাস্থ্যের জন্য খাবারের তালিকা

সাধারনত গৃহপালিত কুকুর মাংসাশী হয়ে থাকে এবং তারা প্রায় সব ধরনের খাবার খায়। কিন্তু বন্য কুকুরেরা তাদের নিজেদের শিকার করা অন্য পশু পাখির মাংস, হাড়, বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ এবং হজমকৃত উদ্ভিজ্জ খায়। যদিও কুকুর মাংসাশী প্রাণী, তারা খুব সামান্য পরিমানে উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণ করে থাকে ঐ শিকার করা প্রাণী হজমের জন্য।

  • সঠিক পরামর্শের জন্য Vet এর সাথে কথা বলুন।
  • কুকুরের বয়স এবং ওজন অনুযায়ী উন্নতমানের Dry Food অথবা Canned Food খাওয়ান। প্রক্রিয়াজাতকৃত এই খাবারে সঠিক পরিমানে পুষ্টি বিদ্যমান। বাজারে এবং বিভিন্ন online shop এ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এবং বিভিন্ন ফ্লেভারের কুকুরের খাদ্য পাওয়া যায়। তবে খাবারের প্যাকেটের গায়ে মেয়াদউত্তীর্ণ তারিখ দেখে কিনুন এবং premium খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।
  • Natural খাবার খাওয়ান। যেমনঃ মাংস (গরু, মুরগি, ভেড়া ইত্যাদি) , ডিম, হাড় এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ খাবার।
  • যদি আপনার কুকুরের দাঁতে অথবা মাড়িতে কোন সমস্যা থাকে তবে তাকে হাড় খেতে দিবেন না। হাড় থেকে বিভিন্ন মাড়ি এবং দাঁতের অসুখ হতে পারে। বেশি হাড় খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে এবং হাড়টি বড় হতে হবে যাতে পুরো হাড়টি মুখে না ঢুকাতে পারে।
  • মাঝে মধ্যে treat হিসেবে বিভিন্ন canned মাছ যেমনঃ sardines, tuna, salmon ইত্যাদি খাওয়ানো যায়।
  • মাঝে মাঝে অল্প পরিমানে সেদ্ধ করা সবজি যেমনঃ মিষ্টিকুমড়া, গাজর, ব্রকলি ইত্যাদি খাওয়ানো যায়।
  • সেদ্ধ করা মাংসের সাথে (মশলা, পেয়াজ, রসুন ছাড়া) ভাত অথবা পাস্তা মিশিয়ে কুকুরকে খাওয়ানো যায়।
  • কুকুরকে মাঝেমধ্যে ঘাস খেতে দিন যা সবজির বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং হজমে সাহায্য করে। ক্যামিকেলযুক্ত এবং বিষাক্ত উদ্ভিদ থেকে সাবধান থাকুন।
  • খাবারের পরিমান নির্ভর করে কুকুরের আকার, জাত, বয়স, ওজন, ব্যায়াম ইত্যাদি অনুযায়ী। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে অতিরিক্ত খাবার অথবা খুব অল্প পরিমানে খাবার খাওয়ানো যাবে না।
  • পূর্ণ বয়স্ক কুকুরকে প্রতিদিন দুইবার খাওয়াতে হবে। খাওয়ার ঠিক আগে এবং ঠিক পরে ব্যায়াম ও হাঁটা উচিৎ নয়।
  • অবশ্যই সবসময় পরিষ্কার দিয়ে রাখতে হবে।
  • কুকুরকে যা খাওয়ানো উচিৎ নয় (কুকুরের জন্য বিষাক্ত) এমন কিছু খাবার হল- পিয়াজ, রসুন, চকলেট, কফি ও ক্যফেইন, এভাকাডো ফল, কাঁচা আটা, ইস্ট, আঙ্গুর, কিশমিশ, বাদাম, ফলের বিচি বা দানা যেমন-আমের আটি, এভাকাডো ফলের দানা, কাঁচা টমেটো, মাশরুম, প্রতিদিন মাছ, ছোট হাড়, Xylitol(বিভিন্ন খাবারে চিনির বদলে ব্যবহৃত হয়), চুইঙ্গাম, টুথপেস্ট ইত্যাদি।

food-routin-of-a-dog

কুকুরের সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালোরি নির্ধারণ

একটি কুকুরের শরীরে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমান ক্যালোরির প্রয়োজন হয়। তাই তার দৈনিক খাবারে সেই পরিমান ক্যালোরি থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে ক্যালোরির পরিমান কম বেশি হয় তার জীবনধারণের প্রকৃতির উপর। ঘরে থাকা কুকুর যদি কম ব্যায়াম এবং কম হাঁটাচলা করে তবে তার শক্তি কম খরচ হবে ফলে তার ক্যালোরিও কম প্রয়োজন হবে। কিন্তু যদি কুকুর বেশি পরিশ্রম, ব্যায়াম করে তবে তার ক্যালোরি বেশি প্রয়োজন হবে। এছাড়া বয়স, ওজন এবং উচ্চতার উপরও দৈনিক ক্যালোরির পরিমান নির্ভর করে।

কুকুরের দৈনিক ক্যালোরির চাহিদা নির্ধারণের বিভিন্ন সুত্র রয়েছে। যেমনঃ

প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ক্যালোরি= (৩০ X কুকুরের ওজন)+ ৭০

উদাহরনঃ যদি কুকুরের ওজন ১৫ কেজি হয় : (৩০ X ১৫)+৭০ = ৫২০ ক্যালোরি প্রতিদিন

বিভিন্ন কোম্পানির Dry Food এবং Canned Food এ ক্যালোরির পরিমান কম বেশি হয়ে থাকে। তাই কুকুরকে খাওয়ানোর আগে খাবারের প্যাকেটের নির্দেশনা পড়ে নিন। বয়স এবং জাত অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন খাবার পাওয়া যায়। আপনার কুকুরের ওজন অনুযায়ী প্রতিদিন সঠিক পরিমানে খাবার খাওয়ান।

তবে ঘরে তৈরি কুকুরের খাবারের ক্যালোরি নির্ধারণ করা একটু কঠিন। ক্যালোরির পরিমান কম হলে কুকুর পুষ্টিহীনতায় ভোগে এবং ক্যালোরির পরিমান বেশি হলে এবং সে অনুযায়ী ব্যায়াম এবং হাঁটাচলা না করলে অতিরিক্ত ওজন হয়ে যায় এবং ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

how-to-determine-dog-calories2

কুকুরের হাঁটা এবং ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়মাবলী

জন্মগতভাবেই কুকুর খেলাধুলা করতে, দৌড়াতে, শিকার করতে ভালবাসে। এর ফলে তাকে বেশি সময় কোথাও আটকে রাখলে অথবা বেঁধে রাখলে তার কাছে তা পছন্দনীয় নয়। এছাড়া মানসিক এবং শারীরিক সুস্বাস্থ্যের জন্য কুকুরের খেলাধুলা এবং ব্যায়াম খুবই প্রয়োজনীয়।

পর্যাপ্ত খেলাধুলা এবং ব্যায়ামের অভাবেঃ

  • ধ্বংসাত্মকভাবে জিনিসপত্র চাবায়, আঁচড়ায় এবং ছিঁড়ে ফেলতে চাইবে।
  • সবসময় কিছু খোঁজার মত আচরণ করবে, ময়লার মধ্যে খুঁজবে এবং মাটি খুঁড়বে।
  • রাতে জেগে থাকবে, উত্তেজিত থাকবে এবং ডাকাডাকি করবে।
  • বেশিরভাগ সময় মন খারাপ থাকবে এবং depression এ চলে যাবে।
  • মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য ডাকাডাকি করবে অথবা কাপড় কামড়ে ধরে টানবে।
  • মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়বে, Roughly বা অমার্জিতভাবে খেলবে এবং কামড়াবে।

খেলাধুলা এবং ব্যায়ামের উপকারিতাঃ

  • ধ্বংসাত্মকভাবে জিনিসপত্র নষ্ট করবে না।
  • মাটি খোঁড়া, খোঁজাখুঁজি করা বন্ধ করবে।
  • কুকুরের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং অতিরিক্ত ওজন হবে না, রোগমুক্ত থাকবে।
  • কুকুরের মন ভালো থাকবে, আচরণ শান্ত থাকবে এবং প্রফুল্লভাবে চলাফেরা করবে।
  • কোস্টকাঠিন্য হবে না, হজম প্রক্রিয়া ভালো হবে।
  • ঘুমের সময় ক্লান্ত থাকবে ফলে অস্থির ব্যাবহার করবে না।

হাঁটানো এবং ব্যায়ামের কিছু নিয়মঃ

  • শক্তিশালী কুকুরের জন্য ব্যায়াম প্রয়োজন। দুর্বল, অসুস্থ কুকুরকে হাঁটানোর প্রয়োজন নেই।
  • লম্বা লোমওয়ালা কুকুর এবং খাটো নাকওয়ালা কুকুরকে ব্যায়াম খুব কম করাতে হবে। বিশেষ করে গরমকালে। বেশি গরমে হিটস্ট্রোকে করতে পারে এবং খাটো নাকওয়ালা কুকুরের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
  • হাঁটার সময় অবশ্যই Dog Leash with Harness ব্যাবহার করবেন। এতে কুকুর হারানো, অন্য কুকুরকে আক্রমন থকে নিরাপদ থাকবে।এবং সে আপনার সাথে সাথে থাকবে।
  • একদিনে বেশিক্ষণ হাঁটানো এবং ব্যায়াম করানো যাবে না।। সময় আস্তে আস্তে বাড়াতে হবে।
  • ১৮মাসের নিচের কুকুরকে ব্যায়াম করানোর প্রয়োজন নেই।
  • ব্যথা পাওয়া এবং হাড়ে ব্যথা অথবা ভাঙ্গা এমন কুকুরকে হাঁটানো যাবে না।
  • খাওয়ার ঠিক কিছুক্ষন আগে এবং পড়ে হাঁটানো উচিৎ নয়।dog-walking-rules-and-benefits2

 

ঘরে বসে তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর Dog Treat

ঘরে তৈরি করা Dog Treat বা Dog Snacks আপনার কুকুরের প্রতি ভালবাসা প্রকাশের একটি অন্যতম মাধ্যম। খুব সহজেই আপনি আপনার পছন্দের কুকুরটির জন্য বানাতে পারেন এবং তাকে ভালো কোন কাজের পুরস্কার হিসেবে Dog Treat দিতে পারেন। Dog Treat কখনই freeze করবেন না অথবা জমাবেন না। Fresh রাখার জন্য refrigerator এ ৫-৭দিন পর্যন্ত সংরক্ষন করতে পারবেন।

Canned food ব্যাবহার করে-

  • যে কোন ফ্লেভার এর একটি Can খুলুন এবং সম্পূর্ণ দলাটি একটি পাত্রে ঢেলে নিন।
  • দলাটি পাতলা এবং লম্বা করে বিস্কিটের মত করে কাটুন।
  • মাইক্রোওয়েভ ওভেনে উচ্চ তাপে আড়াই থেকে তিন মিনিট বেক করুন।
  • Snacks গুলো crispy হলে ঠাণ্ডা করে নিন।

Dry Food ব্যাবহার করে

  • make-healthy-dog-treat-at-home2ব্লেন্ডার মেশিনে ২ কাপ Dry Food নিন এবং ভালোভাবে গুড়ো করে নিন।
  • গুড়ো গুলো একটি বাতিতে ঢালুন। ১-১১/৪ কাপ পানি মেশান এবং ভালো করে মাখান যতক্ষণ না এত dough হয়ে যায়।
  • এবার রুটির মত বানিয়ে ইচ্ছে মত আকারে কাটুন (ছবির মত করে)। তবে মানুষের cookie এর মত খুব পাতলা করা যাবে না।
  • ওভেনে ৩৫০ ডিগ্রি তাপে ২০-৩০ মিনিট বেক করুন।
  • Baked treats গুলকে Refrigerator  এ সংরক্ষন করুন।
harmful foods for dogs

কুকুরের জন্য যে সব খাবার ক্ষতিকারক

মানুষ আদরের বশে কুকুরকে বিভিন্ন খাবার দিয়ে থাকে। কিন্তু এমন অনেক খাবার আছে যা কুকুরের জন্য বিষাক্ত এবং বিপদজনক খাবার। তাই এসব খাবার খেয়ে অনেক সময় কুকুর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে এমন কি মৃত্যুও হতে পারে। আবার অসাবধানতাবশত অনেক সময় কুকুর কিছু জিনিষ খেয়ে ফেলে। তাই জেনে রাখা ভালো কোন খাবারগুলো ও জিনিসগুলো থেকে আপনার কুকুরকে দূরে রাখা উচিৎ।
১) চকলেট, কফি, ক্যাফেইন এবং চা :  এই খাবারগুলো কোকো বীজ থেকে তৈরি হয় যাতে methylxanthines নামের একটি পদার্থ থাকে। এটি খেলে আপনার কুকুরের বমি, ডায়রিয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অস্বাভাবিক হৃদকম্পন হয়ে থাকে।
২) অ্যালকোহল : Beer, Liquor, Wine এবং যেসব খাবারে অ্যালকোহল থাকে সেসব খাবার খেলে দেহে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালন হয়, এর ফলে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে অথবা heart attack করে কুকুর মারা যায়।
৩) আঙ্গুর ও কিসমিস: আঙ্গুর ও কিসমিস কিডনির কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় ও কিডনিকে নষ্ট করে দেয়।
৪) পেঁয়াজ, পেয়াজকলি, রসুন : এইসব খাবার রক্তের কনিকা নষ্ট করে দেয়। বেশি পরিমানে খেলে কুকুরের মৃত্যু হতে পারে।
৫) চিনি ও লবন : সোডিয়াম আয়ন কুকুরের জন্য বিষ। অতিরিক্ত লবন খেলে বমি ও ডায়রিয়া হয়ে মারা যায়। অতিরিক্ত চিনি ডায়াবেটিস সৃষ্টি করে ও দাঁতের ক্ষতি করে।
৬) কাঁচা আটা, টুথপেষ্ট ও চুইঙ্গাম : ইস্টযুক্ত কাঁচা আটা কুকুরের জন্য বিষ। টুথপেষ্ট ও চুইঙ্গাম এর পদার্থ প্রাণীর শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
৭) কাঁচা মাংস, কাঁচা ডিম ও হাড় : কাঁচা ডিম ও মাংসে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে, এর ফলে এটি হজমের জন্য ক্ষতিকারক ও রোগজীবাণু বহন করে প্রাণীর দেহে। শক্ত হাড় খাওয়ার ফলে কুকুরের মাড়িতে ক্ষত সৃষ্টি হয় অথবা গলায় আঁটকে কুকুর মারাও যায়।
৮) দুধ ও দুধজাতীয় খাবার : অনেক সময় দুধ ও দুধজাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়রিয়া হয়ে কুকুর মারা যায়। তবে জীবাণুমুক্ত ও পরিমান মত পানি মেশানো খেলে ক্ষতি হয় না।
৯) মাশরুম, শাপলাফুল, টিউলিপ ফুল এবং বিভিন্ন গাছ  – মাশরুম বিড়ালের জন্য বিষাক্ত। শাপলাফুল , টিউলিপ ফুল ছাড়াও কুকুরের জন্য বিষাক্ত গাছগুলো হলঃdog-poisonus-plants১০) মানুষের ওষুধ ও কীটনাশক : মানুষের অনেক ওষুধ আছে যা কুকুর খেলে মারা যায়। তবে পশু চিকিৎসক এর পরামর্শে ওষুধ খেলে অসুস্থ কুকুর সুস্থ হয়। কিন্তু কীটনাশকে মারাত্মক বিষক্রিয়া হয়।

dog hair loss

কুকুরের লোম পড়ে যাওয়া রোধে করনীয়

স্বাভাবিকভাবে কুকুর বিড়ালের মত লোমশ প্রাণীর সারাদিনে একটু একটু লোম পড়ে। কিন্তু অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে কুকুরের লোম পড়তে থাকে। তখন লোম পড়ার সঠিক কারণটি নির্ণয় করে এর সমাধান করা জরুরী।

লোম পড়ে যাওয়ার কারনসমুহ :
• Ringworm, Flea এবং অন্যান্য পরজীবীর কারনে অস্বাভাবিক চুলকানি হয় এবং লোম পড়ে যেতে থাকে।
• Seasonal allergy হতে পারে যেমন শীতকালে অনেক কুকুরের লোম পড়ে যায়। শীতকালে চামড়া শুষ্ক হয়ে যায় এতে অনেক ধরনের চামড়ার সমস্যা সৃষ্টি হয়।
• Food allergy হতে পারে বিভিন্ন খাদ্য থেকে। সব কুকুরের সব খাবার সহ্য নাও হতে পারে।
• বিভিন্ন Grooming products যেমন – Shampoo, powder, spray ইত্যাদি সব কুকুর সহ্য করতে পারে না। এর কারনে শরীরের লোম পড়ে যায়।
• খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হওয়ার কারনে এবং ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাসের আক্রমণে।
• সঠিক পুষ্টির অভাবে লোম পড়ে যায়।

লোম পড়ে যাওয়া প্রতিরোধে করণীয় :
• কিছু Natural জিনিস ব্যাবহার করে যেমন-
১। Apple Cider Vinegar : যেস্থানে লোম পড়ে যাচ্ছে Apple Cider Vinegar কে সমান পরিমান পানির সাথে মিশিয়ে তুলো দিয়ে সে সব স্থানে লাগাতে হবে। কিন্তু সাবধানে থাকতে হবে যাতে চোখে না যায়। এরপর শুকাতে দিতে যায়। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। খাবারের সাথে ২ ফোঁটা মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এটা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
২। Olive oil : কুকুরের গায়ে 2চামচ Olive oil মেখে দিতে হবে। এটি চুলকানি, জ্বালাপোড়া থেকে এবং উকুন থেকে মুক্তি দেয়।
৩। Lemon juice : একটুকরা লেবুকে গরম পানিতে ৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। ঠাণ্ডা হলে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে।
• Natural এবং অ্যালার্জিমুক্ত Shampoo, powder, spray ব্যবহার করতে হবে।how-to-stop-dog-hair-loss2
• যদি কোন খাদ্য থেকে হয় তাহলে সে খাদ্য পরিবর্তন করে অন্য খাদ্য দিতে হবে।
• শীতকালে কুকুরের আলাদাভাবে যত্ন নিতে হবে।
• কুকুরকে নিয়মিত Deworming এবং Grooming করাতে হবে কৃমি এবং Flea মুক্ত রাখার জন্য।
• কুকুরের থাকার স্থানটি যেন ঠাণ্ডা এবং শুকনো হয়। আবদ্ধ, গরম এবং স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে কুকুরকে থাকতে দেওয়া যাবে না।
• ভিটামিন  D ও E যুক্ত খাবার, পুষ্টিকর খাবার এবং সঠিক পরিমানে খাবার খাওয়াতে হবে।
• Vet এর পরামর্শে ওষুধ খাওয়াতে হবে এবং মলম লাগাতে হবে।

how to remove dog parasite

কুকুরের গায়ে Ticks, Fleas হলে যা করণীয়

কুকুরের পরজীবীর মধ্যে Ticks, Mites, Lice এবং Fleas অধিক পরিচিত। এর ফলে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, পশম পড়ে যাওয়া, ঘা সৃষ্টি, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার রোগের সৃষ্টি হয়। তাই কুকুরের গায়ে যে কোন পোকা দেখলেই তা মেরে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। এ সব ক্ষতিকর পরজীবীর আক্রমন থেকে কুকুরকে বাঁচাতে হলে যা করতে হবে-

১। Powder – Flea এবং Tick দূর করার জন্য বাজারে বিভিন্ন company এর Flea Powder কিনতে পাওয়া যায়। এটি একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি । কিন্তু একটু সাবধানে Powder ব্যাবহার করতে হয় যেন কুকুরের নাকে মুখে না ঢুকে যায়। সারা শরীরে ব্যাবহার করতে হয় এবং ঘাড়, গলা, পেট ও লেজের গোঁড়ায় একটু বেশি দিতে হয়। কতদিন ও কি পরিমান ব্যাবহার করতে হবে তা পণ্যর গায়ে লেখা থাকে।

২। Shampoo– কুকুর বিড়ালের জন্য আলাদা Shampoo পাওয়া যায়। Natural শ্যাম্পু হলে ভাল এতে পশম রুক্ষ হবে না এবং কম পরবে। তবে তা পোকা দূর করার Shampoo কিনা তা দেখে কিনতে হবে। ২-৩ দিন এই শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করালে Flea এবং Tick দূর হয় ।

৩। Flea Spray– পোকা দুর করার জন্য Flea Spray কিনতে পাওয়া যায় এবং কুকুরের গায়ে ব্যাবহার করা হয় । এখন বিভিন্ন vet এর কাছে Spray করার ব্যবস্থা থাকে।

আমাদের Online Shop থেকে Flea Spray কিনতে এখানে ক্লিক করুন

৪। Flea Collar– Dog Flea collar কিনতে পাওয়া যায়। তবে এটা কুকুরের ঘাড়ে চুলকানি এবং চামড়ার রোগ সৃষ্টি করে বিধায় ব্যাবহার না করাই ভালো।

৫। Flea Comb – কুকুরের লোম আঁচড়ানোর জন্য এবং Flea দূর করার জন্য Flea Comb কিনতে পাওয়া যায়। এটি বিশেষভাবে Flea এর জন্য তৈরি। এটি দিয়ে নিয়মিত আঁচড়ালে কুকুরকে Flea মুক্ত রাখা যায়।

৬। Natural পদ্ধতি
• কুকুরকে নিয়মিত গোসল এবং grooming করাতে হবে।
• খোসাসহ পাতলা করে একটি লেবু নিন। ১কাপ আধাসেদ্ধ গরম পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন গোসলের আগে কুকুরের গায়ে মেখে দিন এবং শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এটি পরপর কয়েকদিন ব্যাবহার করুন।
• উকুনের ডিম কুকুরের লোমের সাথে শক্ত ভাবে আটকে থাকে। তাই একটু মেয়নেজ হাতে নিয়ে কুকুরের লোমে ঘষে দিন।এতে ডিমগুলো আলগা হয়ে যাবে। এরপর কুকুরকে ভাল করে কোন Shampoo দিয়ে গোসল করিয়ে দিতে হবে।

বাচ্চা কুকুরের ক্ষেত্রে-
কুকুরের মায়ের গায়ে Flea থাকলে বাচ্চাদের গায়েও হয়। আর এটা ওদের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু ৪ মাস বয়সের আগে বিড়ালের গায়ে কোন ধরনের Powder, Shampoo ইত্যাদি কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যাবহার করা একেবারেই উচিৎ নয়। সাধারনভাবে হাত দিয়ে Ticks, Mites, Lice ধরে ধরে ফেলে দিতে হবে। এরা খুব দ্রুতগতির হয় তাই এদের সহজে ধরা যায় না। হাতে Vaseline Jelly অথবা petroleum jelly মাখিয়ে নিলে এদের ধরতে সুবিধা হয় এবং ধরার পর পালিয়ে যাতে না যায় সে জন্য তাড়াতাড়ি মেরে ফেলতে হবে। Dishwashing Powder যুক্ত পানিতে ফেললে এরা তাড়াতাড়ি মারা যায়। আবার বাচ্চাকে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করিয়ে ভালভাবে মুছে Flea Comb দিয়ে আঁচড়ে দিলে Flea কমে।

যা যা মনে রাখা প্রয়োজন –
১) Flea, Ticks, Mites, Lice যদি বেশি হয় তাহলে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
২) অসুস্থ, ব্যথা পাওয়া অথবা পা ভাঙ্গা কুকুরেকে Flea treatment দেওয়া যাবে না।
৩) সপ্তাহে অন্তত একদিন বিছানা ধুতে হবে কারন Flea এর ডিম বিছানাতে বেশি পাওয়া যায়।
৪) কুকুরকে নিয়মিত grooming করতে হবে।
৫) কুকুরের খাবারের বাটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
৬) বাড়িতে একের অধিক কুকুর থাকলে সবাইকে একসাথে Flea treatment দিতে হবে।

how to potty train a puppy

কুকুরকে Potty Train করার উপায়

গৃহপালিত পশুর মধ্যে কুকুর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী এবং এদেরকে কম সময়ে যে কোন প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। তাই এদেরকে সহজেই potty train করানো যায়। যাদের বাড়িতে খোলা জায়গা আছে তারা কুকুরকে ঘরের বাইরে গিয়ে potty করার প্রশিক্ষণ দেয়। তবে ছোট এপার্টমেন্টে কুকুরকে সাধারনত বাথরুমে potty করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

  • কুকুরকে বারবার বাথরুমে অথবা বাইরে যেখানে টয়লেট করবে সেখানে নিয়ে যেতে হবে। যতবার সম্ভব প্রতি আধা ঘণ্টা – এক ঘণ্টা পর পর। puppy হলে তাকে বেশি করে নিতে হবে কারন puppy এর মূত্রথলি ছোট এবং pee বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারে না।
  • কুকুর যখনি মাটিতে শুকতে থাকবে, জায়গা খুঁজতে থাকবে, লেজটিকে অদ্ভুতভাবে তুলে রাখবে তখনি তাকে বাইরে নিয়ে যেতে হবে।
  • বাথরুমে নিয়ে গিয়ে মুখে যে কোন একটি শব্দ বলতে হবে যা সে মনে রাখে। যেমন-“go potty”, “do potty” ইত্যাদি।Potty Train your Puppy
  • বাথরুমে টয়লেট করার জন্য newspaper এর টুকরা অথবা dog litter tray ব্যাবহার করা যায়। dog litter tray তে মাটি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন pet shop এ dog training pads(ছবির মত)কিনতে পাওয়া।
  • Newspaper ব্যাবহার করলে তা পাল্টে নতুন Newspaper দেওয়ার সময় একটু শুকনো pee রেখে পরিস্কার করতে হবে । গন্ধ পেলে কুকুরের জায়গাটি ভালভাবে মনে থাকে।
  • রাতে ঘুমানোর সময় একটি খাঁচাতে রেখে যেতে হবে। কারন ঘরের মধ্যে ছেড়ে দিলে সে এখানে ওখানে টয়লেট করবে। খাঁচার ভেতর নরম কাপড় দিয়ে বিছানা দিতে হবে।কুকুর আরাম পেলে সেখানে টয়লেট করবে না বরং আটকে রাখবে। সকালে যখন বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হয় তখন টয়লেট করবে। তবে খাঁচায় বেশিক্ষণ আটকে রাখা উচিৎ না কারন কুকুর সেখানেই টয়লেট করে দিতে বাধ্য হবে। দিনের বেলাও ১ ঘণ্টার বেশি খাঁচায় আটকে রাখা যাবে না তাতে কুকুর এটাকে শাস্তি মনে করবে এবং খাঁচায় থাকতে চাইবে না।
  • যদি ঘরের মধ্যেই pee করে দেয় সাথে সাথে জায়গাটি ভালভাবে ভিনেগার অথবা লিকুইড সাবান দিয়ে পরিস্কার করতে হবে যাতে গন্ধ না থাকে। গন্ধ পেলে সেখানেই আবার pee করতে চাইবে।
  • প্রতিবার বাথরুমে গিয়ে অথবা বাইরে গিয়ে টয়লেট করলে তাকে উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কার হিসেবে তার পছন্দের খাবার দিতে হবে এবং আদর করতে হবে।
  • বাথরুমে গিয়ে শান্ত গলায় আস্তে কথা বলতে হবে। জোরে ও উঁচু গলায় কথা বলা যাবে না কারন সে আপনাকে দেখে মনে করতে পারে যে সে কোন ভুল করছে।
  • প্রতিদিন সময় মতো খাবার দিতে হবে। এতে poop করার সময় নির্ণয় করা সহজ হবে। প্রতিবার খাওয়ার পর ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে তারপর বাথরুমে নিয়ে যেতে হবে।
  • দুর্ঘটনাবশত ঘরে pee করতেই পারে। তখন তাকে কোন ভাবেই শাস্তি দেওয়া অথবা কোন কিছু দিয়ে আঘাত করা যাবে না। এতে করে কুকুর অনেক ভয় পেতে পারে এবং আপনার কথা অমান্য করতে পারে।

এভাবে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিলে কুকুরকে potty train করতে ৬-৭ দিন সময় লাগবে। বুদ্ধিমান হওয়ার কারনে খুব কম সময়েই এরা potty train হয়। তবে বাথরুমকে পরিস্কার রাখতে হবে এবং সময়মত কুকুরকে neuter অথবা spay করাতে হবে যাতে তারা বাথরুম অথবা নির্দিষ্ট জায়গা ছেড়ে অন্য কথাও টয়লেট না করে।

12