বিড়ালের ডায়রিয়া হলে প্রাথমিকভাবে যা করনীয়

বিড়ালের ডায়রিয়া হলে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ অবস্থায় বিড়াল খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায়। তাই প্রথমেই বুঝতে হবে কি কারনে পেট খারাপ হচ্ছে।

Continue reading

কুকুর অথবা বিড়াল কামড় দিলে যা করতে হবে এবং এর চিকিৎসা সম্পর্কিত কিছু কথা

বিড়াল অথবা কুকুর অনেক কারনেই মানুষকে আক্রমন করতে পারে, তাই বলে কুকুর পাগল হয়ে গিয়েছে অথবা র‍্যবিসে আক্রান্ত এমন না। অযথা প্রানিদের জ্বালাতন করা, মারা, মা কুকুরের বাচ্চাদের বিরক্ত করা উচিৎ নয়। দুর্ঘটনাবশত কামড় অথবা আঁচর লেগে গেলে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নেওয়া উচিৎ।

Continue reading

বিড়ালকে বিভিন্ন রোগ থেকে নিরাপদে রাখার উপায়

অনেকেই আজকাল পোষাপ্রাণী হিসেবে বিড়ালকে নির্বাচন করছেন। লালন পালনে সুবিধা এবং দেখতে খুব সুন্দর এবং আদুরে এই প্রাণীটি একটু খাবার এবং আশ্রয় পেলেই সহজে পোষ মেনে যায়। আপনার প্রিয় বিড়ালটি অসুস্থ যাতে না হয় সে দিকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখবেন বিড়াল খুব সংবেদনশীল প্রাণী, একটু অসুস্থতায় তাদের মৃত্যু হতে পারে।

Continue reading

Worms in Cats

বিড়ালের কৃমি ও কৃমি হওয়ার লক্ষনসমুহ এবং কৃমি হলে করনীয়

বিড়ালের অভ্যন্তরীণ পরজীবীদের মধ্যে কৃমি অন্যতম। বেশি কৃমি হওয়া বিড়ালের স্বাস্থ্যর পক্ষে ক্ষতিকর।  বিড়ালের মূলত চার ধরনের কৃমি হয়ে থাকে।

১। Roundworm (গোলক্রিমি) :  বিড়ালের সবচেয়ে পরিচিত পরজীবী হচ্ছে গোলকৃমি। এরা বিড়ালের পাকস্থলীতে বসবাস করে। বাচ্চা বিড়াল ও বড় বিড়াল উভয়েরই এর কৃমি হয়। গোল হয়ে থাকে বলে একে গোলক্রিমি বলে। এরা ৩-৪ ইঞ্ছি লম্বা হয়। এই কৃমির ডিম শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে তাই মাটিতে এরা ৬ মাস -১ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

cat-worms-all

২। Hookworm :   হুকওয়ার্ম, Roundworm এর চেয়ে অনেক ছোট। মাত্র ১-২ ইঞ্ছি লম্বা হয়। এরা বিড়ালের ক্ষুদ্র অন্ত্রে বসবাস করে। কারন এরা শুধু প্রাণীর রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। এরা বিড়ালের জন্য হুমকিস্বরূপকারন মারাত্মক রক্তশূন্যতা (anemia) সৃষ্টি করে। কুকুরের চেয়ে বিড়ালের গায়ে এই কৃমি বেশি দেখা যায়।

৩। Tapeworm (ফিতাকৃমি) :  লম্বা এবং চ্যাপ্টা Tapeworm এক ধরনের বিভক্ত পরজীবী। এদের দেহ খণ্ড খণ্ড ভাগে বিভক্ত এবং লম্বায় ৪-২৮ ইঞ্ছি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটা বমি এবং ওজনহীনতার কারন। Tapeworm বিভক্ত হয় যা দেখতে ভাতের মত এবং আক্রান্ত হলে বিড়ালের লোমে এবং লেজের দিকে আটকে থাকতে দেখা যায়।

8। lungworm  :  বিড়ালে ফুসফুস (lung) এ বসবাস করে। এই কৃমি হলে বিড়ালের শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয় এবং কাশি হয়। যেসব বিড়াল বাইরে যাতায়াত করে এবং শিকার করে খায় তারা এই কৃমিতে বেশি আক্রান্ত হয়।

কৃমি হওয়ার কারনসমুহ :

দেহে কৃমি থাকলে বিড়াল অসুস্থ হয়ে পড়ে আর তাই একে প্রতিরোধ করা খুবই জরুরী। বিভিন্ন কারনে কৃমি হতে পারে। যেমন-

  • কৃমির ডিমযুক্ত মাটি এবং গাছ খাওয়ার মাধ্যমে।
  • কৃমির ডিমযুক্ত মলের মাধ্যমে।
  • বিড়ালের গায়ে Flea থাকলে এবং তা পাকস্থলিতে গেলে।
  • মা বিড়ালের যদি কৃমি থাকে তাহলে তার দুধ খেলে বাচ্চাদের কৃমি হয়।
  • ইঁদুর ও পাখি শিকার করে তা খেলে।

সুতরাং কৃমি যাতে না হয় তাই বিড়ালকে আলাদা যত্ন নিতে হবে। কাঁচা মাংস, মাটি যাতে না খায় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, Flea মুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে।

কৃমি হওয়ার লক্ষনসমুহ :

বাহ্যিক পরজীবী যেমন Tick ও Flea আমরা দেখতে পাই। কিন্তু কৃমি সহজে চোখে পড়ে না, শরীরের অভ্যন্তরে থেকে বিড়ালের শারীরিক অসুস্থতার কারন হয়ে দাঁড়ায়। বিড়ালের কৃমি হলে কিছু লক্ষন দেখে বোঝা যায় আবার অনেক সময় লক্ষন দেখা দেয় না। নিচের লক্ষনগুলো দেখলে বুঝতে হবে কৃমি হয়েছে –

  • বিড়ালের ডায়রিয়া হয়।
  • পায়খানার মধ্যে কৃমি দেখা যায় এবং মলদ্বার (anus) এর কাছে দেখা যায়।
  • বিড়াল বারবার anus চাটে।
  • খাবার খেতে চায় না, অরুচি হয়।
  • পেট ফুলে যায়।
  • ওজনহীনতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
  • বমির সাথে কৃমি পরে ও কাশি হয়।

এই লক্ষনগুলো দেখলে বোঝা যায় বিড়ালের কৃমি হয়েছে। তখন বিড়ালকে Deworming অর্থাৎ কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।
বিড়ালের বয়স যদি ২মাস এর বেশি হয় তাহলে Delentin সিরাপ 1ml করে পরপর ২দিন খাওয়াতে হবে। তবে বয়সের তুলনায় ওজন কম হলে 0.60 ml করে খাওয়াতে হবে। এই ওষুধ শুধুমাত্র গোলকৃমি দূর করে।

এছাড়া Helminticide-L (Deworming Tablet for Pet) অবশ্যই Vet এর পরামর্শে ওজন অনুযায়ী খাওয়াতে হবে। এই ওষুধ সব ধরনের কৃমি দূর করে।

তবে সবসময় Vet এর পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো উচিৎ। তাই Vet এর পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর বিড়ালকে deworming  করলে বিড়াল কৃমিমুক্ত থাকে।

Click to buy Helminticide-L (Deworming Tablet for Pet)

cat hairball

বিড়ালের হেয়ার বল (Hair Ball) এর সমস্যা এবং চিকিৎসা

আপনার বিড়ালের হেয়ার বল একটি অপ্রীতিকর সমস্যা। এরজন্য বিড়াল নানা রকম সমস্যা অনুভব করে। অনেক সময় এটি মারাত্বক অসুস্থতার কারন হয়ে দাঁড়ায়।

কারনঃ
যখন বিড়াল বিভিন্ন সময় নিজেকে চাটে তখন তার জিব এর অতিক্ষুদ্র হুক এর মত অংশতে লোম আটকে যায় যা বিড়াল গিলে ফেলে। কিন্তু এই লোম বিড়ালের সরু খাদ্যনালী অতিক্রম করে সম্পূর্ণভাবে পেটে যায়না। লোমগুলো জমাট বেঁধে গেলে তখন বিড়াল বমি করে বের করে দেয়। কিন্তু লোমগুলো যখন পেটে চলে যায় তখন অভ্যন্তরীণ নাড়ীর ব্লক সৃষ্টি করে। এই সমস্যা বেশী দেখা যায় লম্বা লোমের বিড়ালের ক্ষেত্রে। যেমনঃ পার্সিয়ান ও মেইন কুন্স।

লক্ষন সমূহঃ
১) বমি হতে থাকা।
২) বমি করার চেষ্টা করা।
৩) খাবারের প্রতি অনিহা।
৪) তন্দ্রা ভাব।
৫) কোষ্ঠকাঠিন্য।
৬) ডায়রিয়া।

চিকিৎসাঃ
হেয়ার বলের স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। যদি আপনার বিড়াল হেয়ার বলে আক্রান্ত হয় তখন তাকে পেট খালি করার জন্য একধরনের ঔষধ খাওয়ানো হয় যা বিড়ালের হেয়ার বল বিড়ালের হজম তন্ত্রের ভেতর থেকে বের করে নিয়ে আসে। হেয়ার বল নিয়ন্ত্রন করার জন্য আগে থেকেই কিছু ব্যবস্থা নেয়া যায়। এগুলো হলোঃ বিড়ালকে নিয়মিত গ্রুমিং করা, হেয়ার বল কম হয় এমন খাবার দেয়া, যখন দেখবেন আপনার বিড়াল নিজেকে অতিরিক্ত গ্রুমিং করছে তখন তাকে বিরত রাখা এবং সাথে সাথে অন্য কোনো খেলার মধ্যে ব্যস্ত রাখা।

cat excessive scratching

বিড়ালের মাত্রাতিরিক্ত আচড়ানো, চাটাচাটি (licking) করার কারন

বিড়াল সবসময়ই সতর্কতার সাথে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান আচড়ায়, চাটাচাটি করে বা চাবায়। এটি একটি অতি সাধারন ঘটনা। কিন্তু অনেক সময় এটা বিড়ালের স্বাভাবিক আচরনের থেকেও অনেক বেশী বেড়ে যায়। আর তখনই এটা রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

কারণঃ
১) শরীরে পরজীবী জন্মালে(উঁকুন বা উঁকুন জাতীয়)।
২) দাদ হলে।
৩) এলার্জি(খাবার অথবা পরিবেশগত কারন)।
৪) চামড়া শুকিয়ে যাওয়া।
৫) ব্যাথা অথবা অন্য অস্বস্থিকর কারনে।
৬) একঘেয়েমি থেকে।
৭) উদ্বিগ্ন হলে।

লক্ষন সমূহঃ
ঘন ঘন জীভ দিয়ে শরীর চাটাচাটি, সেই সাথে ঘাড়ে একধরনের শক্ত আবরন থাকা, নতুন কোনো খাবার খাওয়ানোর পর অনবরত চুলকানোর লক্ষন দেখা দেওয়া, চামড়ার উপর ফুসকুড়ি পড়া, রেশ দেখা দেওয়া, একই স্থান অনবরত লেহন করা বা কামড়ানো, নতুন স্থানে স্থানান্তরের পর আচরনের পরিবর্তন।

চিকিৎসাঃ
প্রথম কাজ হলো ভাল করে লক্ষ্য রেখে কি কারনে সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করা। রক্ত চোষা পরজীবীর ক্ষেত্রে বিড়ালের শরীরের পরজীবী নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাজারে বিভিন্ন রকম পন্য পাওয়া যায় তা ব্যবহার করতে হবে। আর যদি খাদ্যের এলার্জির জন্য হয় তাহলে ৬ সপ্তাহের জন্য সেই খাদ্যগুলো বর্জন করতে হবে এবং নতুন খাবার দিতে হবে। এই ৬সপ্তাহে আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে কোন খাবারটি আপনার বিড়ালের জন্য উপযুক্ত। আপনার বিড়াল যদি একঘেয়েমি বা উদ্বিগ্ন থাকে তাহলে তাকে বেশী করে সময় দিতে হবে। তার একঘেয়েমি বা উদ্বিগ্নতা দূর করার জন্য ধীরে ধীরে তাকে সাহায্য করতে হবে। এইসব কারনে বিড়াল যদি তার শরীরে ক্ষত সৃষ্টি করে ফেলে তাহলে তাকে এন্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড, এন্টিসিস্টামিন জাতীয় ঔষধ খাওয়াতে হবে।

bad breath in cats

বিড়ালের মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার কারন এবং প্রতিকার

নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যার কারনে বিড়ালের মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। আবার এমনটি ভাবার কারন নাই যে আমাদের বিড়ালের মুখ থেকে মিন্ট এর সুগন্ধ পাবো। কিন্তু যদি তীব্র এবং অস্বস্থিকর গন্ধ হয় তাহলে অন্যকোনো মেডিকেল জনিত কারন থাকতে পারে।

কারনঃ
অধিকাংশ সময় ব্যাকটেরিয়া জনিত কারনে আমাদের বিড়ালের মুখে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। যেসব বিড়ালের দাঁতে প্লাক অথবা একধরনের দাগ হয় সেসব বিড়ালের মুখের দুর্গন্ধ হওয়ার প্রবনতা বেশী। খাদ্যাভাস অথবা চর্ম রোগের কারনেও এই সমস্যা হতে পারে। অনেক লম্বা সময় ধরে গন্ধ থাকলে তা মারাত্বক মেডিকেল সমস্যার ইঙ্গিত করে। মুখের ভিতরের সমস্যা, রেসপিরেটরি সিস্টেমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রোইনটেসটাইনাল নলীর সমস্যা, লিভার অথবা কিডনির সমস্যা।

লক্ষন সমূহঃ
১) দাঁতে অতি বাদামী রঙের ছাতা জাতীয় দাগ থাকা, বিশেষত বিড়ালের drooling ভাব, খেতে কষ্ট হওয়া, লাল টকটকে মাড়ি এইসব লক্ষন সাথে থাকলে বুঝতে হবে দাঁতের মারাত্বক সমস্যা বা গাম ডিজিজ আছে।
২) মিষ্টি এবং ফ্রুটি নিঃশ্বাস ডায়াবেটিসের লক্ষন সাথে যদি ঘন ঘন পানি পান করা ও প্রস্রাব করে।
৩) নিঃশ্বাসের গন্ধ যদি ইউরিনের মত হয় তাহলে কিডনি ফেইলুরের আশংকা থাকে।
৪) দুর্গন্ধ যুক্ত বমি, ক্ষুদা না হওয়া, সামান্য হলদেটে চোখ লিভার ফেইলুরের লক্ষন।
৫) নিজের মুখে নিজে আঁচড় কাটা।

চিকিৎসাঃ
নিয়মিত বিড়ালের দাঁত মাজা, এবং চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করা।

Vomiting in Cats

বিড়ালের বমি হওয়ার কারন ও প্রতিকার

আমরা প্রায় সময় দেখি আমাদের বিড়াল বমি করছে। বিড়াল বিভিন্ন কারনে বমি করে থাকে। এরমধ্যে একটা সাধারন কারন হতে পারে দ্রুত খাবার খেয়ে ফেলা। আবার অনেক সময় নানারকম সিরিয়াস কারনেও বমি করতে পারে তখন খুব দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। সাধারনত খাবার ছাড়া অন্যকিছু খেয়ে ফেলা, অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা, খাওয়ার সাথে সাথেই খেলা এসব কারনে বিড়াল বমি করে থাকে। গ্যাস্ট্রোইনটেসটাইনাল অথবা শরীরের সাধারন কাজের ব্যঘাত ঘটলেও বিড়ালের বমি করার প্রবনতা আছে।

কারণঃ(হঠাৎ এবং তীব্র বমির ক্ষেত্রে)

খাবারের পরিবর্তন, খাবারে অসহিষ্ণুতা, কৃমি, গ্যাস্ট্রোইনটেসটাইনাল নালীর প্রদাহ, হেয়ার বল বা খেলনা খেয়ে ফেলা, কিডনী অকেজো হয়ে যাওয়া, ভাইরাস জনিত কারন, বিষ বা রাসায়নিক পদার্থ খেয়ে ফেলা, অগ্নাশয়ের সমস্যা, ঔষধের প্রতিক্রিয়া, অপারেশনের পরবর্তী সময়, কোষ্ঠ কাঠিন্য, পায়ু পথের প্রদাহ, হৃদপিন্ড পোকা দ্বারা সংক্রমিত হলে, স্নায়ু সম্পর্কিত রোগ হলে।

লক্ষন সমূহঃ
একবার বা দুইবার বমি হবার পর যদি বিড়ালের খাবার গ্রহন, চলাফেরা স্বাভাবিক হয়ে গেলে এটি নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। কিন্তু যদি বমির সাথে ডায়রিয়া, পানি শূণ্যতা, তন্দ্রা ভাব থাকা, রক্ত বমি হওয়া, ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুদা এবং পানি পান করার পরিবর্তন হয় তাহলে সাথে সাথে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।

চিকিৎসাঃ
বমি হওয়ার পর পর বিড়ালকে কোনো খাবার এবং পানীয় না দেওয়া। কমপক্ষে ২ঘন্টা পর অল্প করে পানি পান করানো এবং ধীরে ধীরে নরম খাবার খাওয়ানো। যেমনঃ সিদ্ধ আলু, চামড়া ছাড়ানো রান্নাকরা মুরগীর মাংস। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তরল খাবারের মাধ্যমে চিকিৎসা করতে হয় অথবা বমির উদ্রেগ উপশমকারী ঔষধ দিতে হয়। সঠিক চিকিৎসা নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের উপদেশ নেয়া উত্তম।

obesity in cats

একটি মাত্রাতিরিক্ত ওজনের বিড়ালের জন্য করনীয়

এটি একটি অতিপুষ্টি জনিত সমস্যা। বিড়ালের ক্ষেত্রে প্রায়ই এটি দেখা যায়। স্থূলতার কারনে বিড়াল অনেক মারাত্নক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যেমনঃ বিড়ালের আয়ু কমে যাওয়া, আর্থারাইটিস(বাত-ব্যাথা বা জয়েন্টের ব্যাথা), হজমের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমস্যা, শ্বাস-প্রশ্বাসের অঙ্গের সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যান্সারের মত মারাত্নক রোগ। যেকোনো বয়সের বিড়ালের এটি হতে পারে। সাধারনত মধ্যবয়সী ও ৫ থেকে ১০ বছরের বিড়ালের মধ্যে দেখা যায়। জন্মবিরতি করন করানো এবং সবসময় ঘরে থাকা বিড়ালেও এটি দেখা যায়।

স্থুলতার কারণঃ
বিভিন্ন কারনে বিড়ালের স্থূলতা হতে পারে। এরমধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশী খাওয়ানো, অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো, অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস করানো, বারবার খাওয়ানো, ব্যায়াম না করানো, বয়স বৃদ্ধির সাথে যখন বিড়ালের স্বাভাবিক চলাফেরা কমে যাওয়া। এছাড়াও থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক কম কার্যকারিতা, অগ্নাশয়ের টিউমার, অতিরিক্ত করটিসল জনিত গ্রন্থির সমস্যা, জন্মবিরতি করন করানো।

লক্ষন সমূহঃ
১) ওজন বৃদ্ধি
২) শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট
৩) ব্যায়াম করতে না পারা বা ব্যায়ম করতে না চাওয়া
৪) শরীরের অবস্থা মূল্যায়নের পর বেশী স্কোর করা

চিকিৎসাঃ

বিড়ালের খাবারের ক্যালরী এবং ফ্যাটের পরিমানের দিকে ভালোমত খেয়াল রাখতে হবে। আক্রান্ত বিড়ালকে সঠিক পরিমানের ক্যালরি এবং ফ্যাট যুক্ত খাবার দিতে হবে। ক্যাট ফুড সপগুলোতে এই ধরনের খাবার পাওয়া যাবে। এইভাবে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ওজন কমানো যাবে। বিড়ালকে প্রয়োজনীয় পরিমান খেলাধুলা এবং ব্যায়াম করাতে হবে।
প্রয়োজনে একজন অভিজ্ঞ Vet এর সাহা্য্য নিতে হবে।

rabies-in-cats

বিড়ালের জলাতঙ্ক

কুকুরের মত বিড়ালেরও জলাতঙ্ক হয় এবং এটি অনেক পরিচিত এবং ভয়ঙ্কর রোগ। এটি একটি প্রাণঘাতী রোগ। এই রোগের ভাইরাস শেয়াল, রেকুন, বাদুর ও ইঁদুর বহন করে থাকে। এই প্রাণীগুলোর কামড়ে অথবা আঁচড়ে বেড়ালের মধ্যে এই রোগ ছড়ায়। আবার জলাতঙ্কে আক্রান্ত বিড়ালের কামড়ে অথবা আঁচড়ে মানুষের এবং অন্য প্রাণীরও এই রোগ হয়ে থাকে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পরে মস্তিস্ক পর্যন্ত ছরিয়ে পরে। বিড়ালের ক্ষেত্রে ২-৬ সপ্তাহ ও সময় লাগতে পারে এবং আস্তে আস্তে এ লক্ষনগুলো প্রকাশ পায়। তাই এই লক্ষনগুলো দেখলেই বিড়ালকে পশু চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করাতে হবে। এ রোগে আক্রান্ত বিড়াল খুব বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারে না। বিড়ালের এই রোগ হলে তার কোনও চিকিৎসা নেই কিন্তু প্রতিষেধক আছে। বিড়ালকে Vaccine / প্রতিষেধক দেওয়ার মাধ্যমে এই রোগ থেকে বাঁচানো যায়। তাই সচেতনতার মাধ্যমেই এই রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

জলাতঙ্কের লক্ষণসমূহ –
১) জ্বর আসা কিংবা প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়া।
২) হটাৎ আচরণে পরিবর্তন হওয়া অথবা অস্বাভাবিক পাগলের মত আচরণ করা।
৩) হটাৎ হিংস্র হয়ে ওঠা বা কামড় / আঁচর দিতে চাও।
৪) অন্যরকমভাবে ডাকা।
৫) মুখ দিয়ে লালা ঝরা।
৬) ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া।
৭) ভয় পাওয়া এবং পানি পান বন্ধ করে দেওয়া।

জলাতঙ্কের প্রতিষেধক –
শুধুমাত্র rabies vaccine/ জলাতঙ্কের টিকার মাধ্যমে এই রোগের প্রতিরোধ করা সম্ভব। বর্তমানে সব পশু চিকিৎসকের কাছ থেকেই এই টিকা দেওয়া যায়।

dehydration-in-cats

বিড়ালের ডিহাইড্রেশন (পানি শূন্যতা)

পানি এবং মিনারেল এর ইমব্যালেন্স এর কারনে সাধারনত ডিহাইড্রেশন হয়ে থাকে। যার ফলে অনেক মারাত্বক সমস্যা হয়ে যায়। পানি খাওয়া কম হলে অথবা ফ্লুইড লস বেশী হলে ডিহাইড্রেশন হয়ে থাকে। অতিরিক্ত গরমে, বমি বা বিড়ালের এক্টিভিটি বেশী হলেও ঘটতে পারে। বিড়াল যত বেশী ক্যালরি গ্রহন করবে আর যত মেটাবলিক ওয়েস্ট প্রডিউস করবে তার শরীরের তাপ কন্ট্রোল করার জন্য তত পানির দরকার হবে। সাধারনত, একটা পূর্ণবয়স্ক বিড়াল যত কিলোক্যালরি গ্রহন করবে তত মিলিলিটার পানি পান করা উচিত। Dry Cat food এ সাধারনত ৭%-১২% পানি থাকে কিন্তু canned food এ ৮০% এর মত পানির পরিমান থাকে।

কারনঃ
১) পর্যাপ্ত পানি না পান করানো
২) অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপ বেড়ে গেলে
৩) বমি হলে
৪) ডাইরিয়া হলে
৫) Dry food বেশী খেলে
৬) বিড়ালের এক্টিভিটি বেশী হলে

লক্ষন সমূহঃ
১) Sunken eyes
২) তন্দ্রা ভাব
৩) ক্ষুদা মন্দা
৪) মুখ শুকিয়ে যাওয়া
৫) ডিপ্রেশন
৬) হার্ট বিট বেড়ে যাওয়া
৭) চামড়ার ইলাস্টিসিটি কমে যাওয়া
৮) জোরে জোরে শ্বাস নেওয়া

চিকিৎসাঃ
ডিহাইড্রেশনের যেকোনো লক্ষন দেখা দেয়ার সাথে সাথে আপনার বিড়ালকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। কি কারনে ডিহাইড্রেশন হচ্ছে তা ডায়াগনসিস করে বের করে ট্রিটমেন্ট করতে হবে। তবে কিছু ব্যাপারে আমরা খেয়াল করলে আমাদের বিড়ালকে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করতে পারি।

১) বিড়ালকে সবসময় পরিষ্কার পানি দিতে হবে। আর তা বারবার পরিবর্তন করে দিতে হবে। এবং প্রতিদিন পানির পাত্র ধুয়ে দিতে হবে যাতে করে ব্যাকটেরিয়া না জন্মাতে পারে।

২) বিড়াল কিভাবে পানি পান করতে পছন্দ করে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। কিছু বিড়াল বোলে, কিছু টেপ থেকে অথবা বোতল থেকে, কিছু কিছু আবার ফাউন্টেন থেকে পানি পান করতে চায়। এগুলো দোকানে কিনতে পাওয়া যাবে।

৩) বিড়াল যদি বমি অথবা ডাইরিয়া থেকে রিকভার করা অবস্থায় থাকে তাহলে প্রথমে আইস কিউব দিতে হবে যা সে জিব দিয়ে চেটে খাবে। পরে আস্তে আস্তে পানি দিতে হবে।

৪) রোড ট্রিপে গেলে অবশ্যই সাথে পানি নিয়ে যেতে হবে। কারন বিড়াল মোশন সিকনেস এর জন্য বমি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাকে পানি দিতে হবে।স্পেশালি, প্লেনে ফ্লাই করার পর।

diarrhoea-in-cats

বিড়ালের ডায়রিয়া – প্রাথমিক চিকিৎসায় যা করণীয়

বিড়ালের ডায়রিয়া একটি খুব লক্ষনীয় রোগ। বিভিন্ন কারনে বিড়ালের ডায়রিয়া হতে পারে।তবে এ সময় ভালভাবে বিড়ালের যত্ন নিতে হবে। এসময় বিড়াল সহজে খেতে চায় না এবং বারবার পাতলা পায়খানার ফলে খুব দ্রুত শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে।

ডায়রিয়া হওয়ার কারণঃ

১) হটাৎ করে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন।
২) Powder milk অথবা গরুর দুধ খেলে।
৩) নষ্ট ও বাসি খাবার খাওয়া।
৪) কিছু কিছু খাবারে বিড়ালের এলার্জি থাকে, সেসব খাবার খেলে।
৫) ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস সংক্রমনে।
৬) অভ্যন্তরীন পরজীবী যেমনঃ গোলকৃমি হলে।
৭) কোন ঔষধের প্রতিক্রিয়ায়।
৮) কিডনী বা লিভারের সমস্যা।
৯) হজম তন্ত্রের ক্যান্সার বা টিউমার।

লক্ষণ সমূহঃ
পাতলা এবং বারেবারে মল ত্যাগ , শ্লেষ্মা বা রক্ত মল , ঝিমুনি, জ্বর , বমি , খাবার খেতে না চাওয়া ইত্যাদি। যদি বিড়ালের মল কালো বা মলের সাথে রক্ত থাকে তাহলে বুঝতে হবে পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের রক্তক্ষরণ এর কারন।

চিকিৎসাঃ
এই সময় সাধারনত ১২-২৪ ঘন্টা বিড়ালকে খাবার না দেওয়া, কিন্তু যথেষ্ট পরিমানে বিষুদ্ধ পানি পান করাতে হবে যাতে করে বিড়াল পানি শূন্যতায় না ভোগে। বিড়ালকে ৩ ঘণ্টা  পর পর ৬-৮ ফোঁটা স্যলাইন খাওয়াতে হবে সঙ্গে মুরগির সুপ (chicken stock) ও ভাতের মাড় খাওয়াতে পারলে ভালো হয়। এছাড়া ভাত এবং তার অর্ধেক পরিমান সেদ্ধ মাংস অথবা সেদ্ধ আলু নরম করে বিড়ালকে খাওয়ানো যেতে পারে। যদি ২৪ ঘন্টারও বেশী সময় ডায়রিয়া হতে থাকে তাহলে তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। আর ডায়রিয়া শুরুর প্রথম থেকেই যদি তন্দ্রা ভাব, বমি, জ্বর , কালো বা রক্ত মল হয় তাহলে আর ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করা যাবে না সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আর ডায়রিয়া প্রবন বিড়ালকে দুগ্ধ জাতীয় খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

12